নয়াদিল্লি: আন্দোলনের ইতিহাস বলে, আন্দোলন কখনও পুরোপুরি শেষ হয় না। তার চেতনা থেকে জন্ম নেয় নতুন প্রশ্ন, নতুন দাবি, নতুন লড়াই! অধিকার আদায়ের সংগ্রাম সময়ের সঙ্গে রূপ বদলায়, কিন্তু কখনও পুরোপুরি থেমে যায় না। দেড় মাসের সংগ্রামের পর রবিবারের সকালটা সেইসব হাজার হাজার আন্দোলনকারী ছেলেমেয়েদের কাছে আলাদা। আলাদা ককরোচ প্রধান অভিজিৎ দিপকের (Abhijit Dipke) কাছেও। যন্তর মন্তরে সাফাই চলছে, ফেরানো হয়েছে ইন্টারনেট।
প্রায় দেড়মাসের ঠিকানাকে বিদায় জানিয়ে আজ থেকে সকলেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চলেছে। কিন্তু প্রশ্ন একটা থেকেই যায়, এখানেই কি লড়াই শেষ? সেই প্রশ্নেরই জবাব দিলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। বর্তমানে টাইফয়েডে আক্রান্ত তিনি। শনিবার যন্তরমন্তরে ৩৭ দিনের অবস্থান-বিক্ষোভ প্রত্যাহারের ঘোষণা করার পর তিনি বাড়ি ফিরে যান।
রবিবার সকালে সেখান থেকেই একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন দিপকে। ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ (Abhijit Dipke) বলেন, “আজ একটু স্বস্তির ঘুম। সকালে উঠে কী হবে, সেই চিন্তা করতে হয়নি।” দীর্ঘ ৩৭ দিনের আন্দোলনের (CJP Protest) কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এই লড়াই সহজ ছিল না। আন্দোলনের শুরু থেকে যাঁরা পাশে ছিলেন, তাঁদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানান তিনি।
অভিজিৎ বলেন, “এই ৩৭ দিন যারা আমাদের পাশে ছিলেন, প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাতে চাই। অনেকের সঙ্গে কথা বলা হয়নি, তবুও সবাইকে কৃতজ্ঞতা। যারা আমাদের সমালোচনা করেছেন, তাঁদেরও ধন্যবাদ। আপনারা না থাকলে আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার শিক্ষা পেতাম না।”
X Link: https://x.com/Cockroachisback/status/2081207288975532204
আন্দোলন (CJP Protest) আপাতত শেষ হলেও লড়াই থামছে না বলেই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান। তিনি (Abhijit Dipke) বলেন, “এখানেই শেষ নয়, ককরোচদের আরও অনেক পথচলা বাকি।” বলা বাহুল্য, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাকে আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখলেও এখানেই থেমে থাকতে রাজি নয় ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)।
ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে সংগঠনের প্রধান অভিজিৎ দীপকে বলেন, “এখানেই শেষ নয়। এটা সবে শুরু। ককরোচ জনতা পার্টির সামনে আরও দীর্ঘ রাস্তা বাকি।” যন্তরমন্তর ছাড়ার আগেও তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন, “ঝুকতা হ্যায় দুনিয়া, ঝুকানেওয়ালা চাহিয়ে।” যদিও তাঁর এই মন্তব্য কাদের উদ্দেশে, তা স্পষ্ট করেননি।
এদিকে সংগঠনের মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, আপাতত তাঁদের লক্ষ্য আন্দোলনকে দেশের তৃণমূল স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া। তাঁর দাবি, দেশে শতাধিক মূলধারার রাজনৈতিক দল থাকলেও যুব সমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কেউ সফল হয়নি। তাই যে দলই ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসুক না কেন, যুবসমাজের দাবি পূরণে যাতে তারা বাধ্য হয়, সেই লক্ষ্যেই আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি।


