Aaj India Desk ,বীরভূম : বিধানসভা ভোট (West Bengal Assembly Election 2026) যত এগোচ্ছে, ততই বীরভূমে (Birbhum) তৃণমূলের (TMC) গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। সাংসদ শতাব্দী রায়ের (TMC MP Shatabdi Roy) একটি মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তিনি কংগ্রেস (Congress) নিয়ে যে কড়া মন্তব্য করেছেন, তা ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্কের আবহ। এই ইস্যুতে পাল্টা আক্রমণে নেমেছে বিজেপি (BJP) শিবির।
মুরারইয়ের এক সভা থেকে বীরভূমের তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়ের মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, কংগ্রেসের হয়ে ভোট করার কথা কেউ ভাবলে, এমন কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত যাতে ভবিষ্যতে তাঁদের পরিবারও বিরোধিতার পথে না হাঁটে। তাঁর এই বক্তব্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোরদার বিতর্ক।
তৃণমূলের গড় ও অনুব্রত মণ্ডলের জেলা বীরভূমে বিধানসভা ভোটের আগে দলীয় ঐক্য নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠছে। মুরারইয়ের খান ক্রিকেট গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার আগে মঞ্চ থেকেই দলের একাংশকে কড়া বার্তা দেন শতাব্দী রায়।তিনি স্পষ্ট জানান, দলে থেকে বিরোধিতা করা বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর কথায়, বিরোধী হিসেবে থাকলে সম্মান রয়েছে, কিন্তু দলের ভিতরে থেকে বিরোধিতা করলে তা মেনে নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, দলে থাকতে হলে দলের হয়ে কাজ করতে হবে, না হলে স্বাধীনভাবে অন্য দলে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ করেছে বিজেপি। বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তৃণমূলের বিদায় এখন সময়ের অপেক্ষা এবং রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত হচ্ছে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব একই মঞ্চে থাকা সত্ত্বেও সাংসদকে এ ধরনের ভাষায় কথা বলতে হচ্ছে, যা শাসকদলের অভ্যন্তরীণ অস্বস্তিকেই প্রকাশ করছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, গোটা বীরভূম জুড়েই তৃণমূলের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তীব্র আকার নিয়েছে।
বিজেপি নেতার দাবি, এই অন্তর্কলহের কারণেই শাসকদলের প্রার্থীরা এলাকায় ঠিকমতো প্রচার করতে পারছেন না, অন্যদিকে কংগ্রেস প্রার্থীরা সক্রিয়ভাবে প্রচারে নেমে পড়েছেন।মুরারই আসনে এবার তৃণমূল প্রার্থী করেছে বর্তমান বিধায়ক মোশারফ হোসেনকে। বিজেপির প্রার্থী রিঙ্কি ঘোষ এবং কংগ্রেসের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সঞ্জিবউর রহমান। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফাতেই ভোটগ্রহণ হবে মুরারই বিধানসভা কেন্দ্রে।


