Aaj lndia Desk,হুগলি: ভোটের আগে দিন গোনা শুরু হয়ে গেছে। রাজনৈতিক মঞ্চে উত্তাপ যেমন তুঙ্গে, তেমনই প্রকৃতিও যেন পাল্লা দিয়ে বাড়িয়ে চলেছে তাপমাত্রা। এই দুইয়ের চাপে সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখে এখন প্রার্থীরাই কারণ, ভোটের লড়াইয়ের আগে নিজের শরীরকে সুস্থ রাখা এখন প্রায় যুদ্ধের সমান কঠিন।
সময় কম, কাজ বেশি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন প্রচার রোড শো, জনসভা, দরজায় দরজায় পৌঁছনো। তার মধ্যেই প্রখর রোদ যেন প্রতিটি পদক্ষেপকে আরও কঠিন করে তুলছে। ফলে, অভ্যাস বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন প্রার্থীরা। সারা বছরের খাদ্যাভ্যাস আপাতত তুলে রেখে বেছে নিতে হচ্ছে হালকা, সহজপাচ্য খাবার।এখন তাদের দিনের তালিকায় ভারী খাবারের জায়গা নেই বললেই চলে। বরং অল্প অল্প করে বারবার খাওয়াই ভরসা। প্রচারের ফাঁকে সামান্য বিশ্রাম, তার সঙ্গে হালকা কিছু খেয়ে আবার বেরিয়ে পড়া এই ছন্দেই কাটছে দিন।
এই দৌড়ঝাঁপের মাঝে সবচেয়ে বড় সঙ্গী হয়ে উঠেছে ডাবের জল আর টক দই। গরমে শরীর ঠান্ডা রাখা, শক্তি জোগানো এই দুইয়ের ভার সামলাচ্ছে এই সহজ খাবারগুলোই।সব মিলিয়ে, এবারের ভোটযুদ্ধ শুধু রাজনৈতিক কৌশলের নয় এটা সহনশীলতা, শারীরিক সক্ষমতা আর ধৈর্যেরও এক কঠিন পরীক্ষা। এখানে টিকে থাকতে হলে শুধু সমর্থন নয়, দরকার শক্ত শরীরও।
ভোটের ময়দান এখন শুধু রাজনৈতিক লড়াইয়ের জায়গা নয়, একপ্রকার সহনশীলতার পরীক্ষাকেন্দ্র। প্রখর রোদে দিনভর প্রচারের চাপে প্রার্থীদের জীবনযাত্রাতেও এসেছে বড়সড় বদল বিশেষ করে খাওয়া দাওয়ায়।
গোঘাটের তৃণমূল প্রার্থী নির্মল মাজির দিন শুরু হচ্ছে একেবারে সাদামাটা ভাবে লিকার চা, বিস্কুট কিংবা একমুঠো মুড়ি দিয়ে। তারপর আর থামা নেই। রোদ মাথায় নিয়েই প্রচার, আর তার ফাঁকে ফাঁকে ভরসা নুন-লেবুর জল আর ডাব। মাঝেমধ্যে আবার লিকার চা-ও। দুপুরে একটু সময় পেলে হালকা খাওয়া ,বিউলির ডাল, আলুভাতে, উচ্ছে ভাজা, পোস্ত কিংবা মাছ দিয়ে পাতলা সবজির ঝোল। পেট ভরানো নয়, বরং শরীর টিকিয়ে রাখাই এখন মূল লক্ষ্য। অন্যদিকে, আরামবাগের তৃণমূল প্রার্থী মিতা বাগের দিনটা যেন আরও বেশি ব্যস্ততায় মোড়া। প্রচারের পাশাপাশি সামলাতে হচ্ছে সংসারও। সকাল শুরু হয় বাড়ির কাজকর্ম, পরিবারের দায়িত্ব, স্নান–পুজো সব সেরে। তারপর বেরোনোর আগে পাতে থাকে একেবারে গ্রামবাংলার চেনা ছবি পান্তা ভাত, আলু সিদ্ধ, পিঁয়াজ আর কাঁচা লঙ্কা মেখে। এই সহজ খাবারই জোগাচ্ছে সারাদিনের শক্তি। প্রচারের ফাঁকে কর্মীদের আনা ডাব, কখনও বা টক দই এই নিয়েই চলছে দিন। দুপুরে ভাত, ডাল আর হালকা সবজির ঝোল সরলতায় ভরপুর, কিন্তু কার্যকর।
বিরোধী শিবিরেও চিত্রটা খুব আলাদা নয়। আরামবাগের বিজেপি প্রার্থী হেমন্ত বাগ জানাচ্ছেন, সকালটা কাটছে জলমুড়ি দিয়ে। দিনের বাকি সময় জুড়ে গরমের সঙ্গে লড়াই তাই ভাত, পাতলা ঝোল, টক দই, মাছ, কখনও বা দুটুকরো চিকেন। তবে রাতের দিকে ক্লান্তি এমনই চাপে বসে যে খাওয়ার ইচ্ছেই থাকে না জল দিয়ে মুড়িই তখন শেষ ভরসা। পুরশুড়ার বিজেপি প্রার্থী বিমান ঘোষের কথাতেও ধরা পড়ছে একই বাস্তবতা। টক দই, নুন–লেবুর জল, ভাতের সঙ্গে সাদাসিধে সবজির ঝোল এই দিয়েই দিন চলছে। রাতে কখনও জলঢালা ভাত, কখনও শুকনো মুড়ি। তার মাঝে ডাব, লিকার চা গরমে শরীর ঠান্ডা রাখার সহজ উপায়। স্পষ্ট কথায় তিনি বলছেন, “এই গরমে ভারী কিছু খেতে মনই চায় না, নুন–লেবুর জলটাই বেশি ভরসা।”
সব মিলিয়ে, ভোটের লড়াইয়ে এখন মেনু হয়ে উঠেছে ‘মিনিমাল’। পদের বাহার নেই, আছে টিকে থাকার কৌশল। কারণ, এই দহনকালে রাজনীতি যতটা না বক্তব্যের লড়াই, তার থেকেও বেশি হয়ে উঠেছে শরীর সামলে এগিয়ে চলার পরীক্ষা।
খানাকুলের বিজেপি প্রার্থী সুশান্ত ঘোষের দিন শুরু হয় একেবারে হালকা ছন্দে মুড়ি, চা আর সামান্য কিছু মুখে দিয়ে। তারপর রোদে নামার প্রস্তুতি। দুপুরে ভাত, শাক–সবজি, ডাল, মাছ কখনও বা মাংসের কয়েক টুকরো। তবে সব কিছুর মাঝেই সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠেছে শরীর ঠান্ডা রাখা তাই ডাব আর টক দই এখন তাঁর নিত্যসঙ্গী। রাতে ফের সাদামাটা ভাত-ডাল-সবজি দিনের শেষে আর বেশি কিছু চাওয়ার মতো শক্তি থাকে না।বলাগড়ের প্রার্থী রঞ্জন ধাড়ার মেনুতেও সেই একই সরলতার ছাপ। দুপুরে ভাত, ডাল, আলু পোস্ত কখনও মাছ, কখনও চিকেন। প্রচারের ফাঁকে ক্লান্তি কাটাতে ভরসা ডাব আর লেবুর জল। গরমের সঙ্গে যুদ্ধ জিততে এই দুই-ই যেন তাঁর গোপন অস্ত্র।
অন্যদিকে, বেচারাম মান্নার খাওয়াদাওয়ায় একটু ভিন্ন ছোঁয়া। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ মুড়ি আর ছোলা সিদ্ধ, সঙ্গে শসা আর কলা একটু পুষ্টির বাড়তি নজর। দুপুরে ভাত, টক ডাল, ছোট মাছ, সঙ্গে যে কোনও সবজি। শেষে কাঁচা আমের টক গরমে স্বাদ আর স্বস্তি দুটোই এনে দেয়। সপ্তগ্রামের প্রার্থী বিদেশ বসুর পাতে আবার একটু বৈচিত্র্যের আভাস। দুপুরে ভাত, ডাল, সবজি তার সঙ্গে কখনও মাছের কারি, কখনও ডিম, কখনও বা চিকেন। অর্থাৎ, একই রুটিনের ভেতরেও সামান্য বদল রেখে শরীর ও স্বাদ দুটোকেই সামলানোর চেষ্টা।
সব মিলিয়ে, দল আলাদা, মত আলাদা, কিন্তু গরমের কাছে সবাই এক। পাতে যা-ই থাকুক, মূল মন্ত্র একটাই হালকা খাও, জল খাও, আর কোনওভাবে দিনটা পার করো। কারণ এই ভোটযুদ্ধে জেতার আগে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এই প্রখর রোদে নিজেকে টিকিয়ে রাখা।


