Aaj India Desk , কলকাতা: সামনেই রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচন। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, মুর্শিদাবাদের এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক উত্তাপও তত বাড়ছে। প্রচারে একদিকে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছে শাসক শিবির, অন্যদিকে বিরোধীদের প্রচারের অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে অবাধ ভোট এবং বুথ রক্ষার প্রশ্ন। আর এই আবহেই তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা—বিজেপির বিরুদ্ধে কি নিচুতলায় কোনও সমন্বয়ের পথে হাঁটছে বিরোধী দলগুলি?
‘নিজের বুথ নিজেকেই রক্ষা করতে হবে’, বার্তা অধীরের
রেজিনগরে প্রচারে গিয়ে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury) স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সাধারণ মানুষ যাতে নিজের ভোট নিজে দিতে পারেন, সেটাই এখন মূল বিষয়। তাঁর বক্তব্য, প্রত্যেক দল নিজেদের মতো করে বুথ রক্ষার ব্যবস্থা করুক। নির্বাচন কমিশনেরও দায়িত্ব, ভোটাররা যাতে কোনও বাধা ছাড়াই ভোট দিতে পারেন তা নিশ্চিত করা।
অন্যদিকে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)-এর বক্তব্যেও উঠে এসেছে অবাধ ভোটের প্রসঙ্গ। তাঁর কথায়, একজন ভোটার কাকে ভোট দেবেন, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কিন্তু প্রত্যেকে যাতে ভোট দিতে পারেন এবং পুলিশকে ব্যবহার করে ভোট করানোর অভিযোগ না ওঠে, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই দুই বক্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি মাটির স্তরে বিজেপি-বিরোধী দলগুলির মধ্যে কোনও সমন্বয় তৈরি হচ্ছে? যদিও কোনও দলই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এমন জোটের কথা ঘোষণা করেনি। বাম নেতা শতরূপ ঘোষ (Shatarup Ghosh) অবশ্য এই প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
প্রার্থী বদল ঘিরেও নাটক রেজিনগরে
উপনির্বাচনের আগে তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী (Rabiul Alam Chowdhury)-কে নিয়েও তৈরি হয়েছিল নাটকীয় পরিস্থিতি। প্রথমে মনোনয়ন প্রত্যাহারের ইঙ্গিত মিললেও শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন তিনি। দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পর ময়দানে থাকার সিদ্ধান্ত নেন রবিউল।
উন্নয়নের বার্তা শুভেন্দুর
অন্যদিকে বিজেপির প্রচারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) রেজিনগরের জন্য একাধিক উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। শিল্পতালুকে আগামী দেড় বছরের মধ্যে কারখানা তৈরির রূপরেখার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামো উন্নয়নের বার্তা দিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে ‘৭০/৩০’-এর মতো বিভাজনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে ‘রাষ্ট্রবাদী’ মানুষকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বার্তা, হিন্দু-মুসলিমের বিভাজন নয়, উন্নয়নকে সামনে রেখেই ভোট হওয়া উচিত।
ফলে রেজিনগরে এখন লড়াই শুধু প্রার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বনাম বুথ রক্ষার দাবি শেষ পর্যন্ত কোন ইস্যু ভোটারদের মনে বেশি প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


