Aaj India Desk, কলকাতা : সংসদে অতীতের আচরণ নিয়ে তীব্র বিতর্কের জেরে বড় সিদ্ধান্ত। মহিলা সাংসদের বিরুদ্ধে অসংসদীয় ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে শেষ পর্যন্ত কড়া পদক্ষেপের মুখে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। দীর্ঘ বিতর্ক ও অভিযোগের পর শেষ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে ।
কী অভিযোগ উঠেছিল?
অভিযোগের সূত্রপাত হয় বর্তমানে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-এর লোকসভার চিফ হুইপ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের লিখিত অভিযোগকে কেন্দ্র করে। অভিযোগে দাবি করা হয়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অতীতে সংসদের ভিতরে তাঁকে উদ্দেশ্য করে অসংসদীয়, ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন। বিষয়টি স্পিকারের নজরে আনা হলে তা নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়। এরপর মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়ালের পক্ষ থেকে কল্যাণের বিরুদ্ধে সাসপেনশনের প্রস্তাব আনা হয়। এর জেরেই বুধবার লোকসভায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
কী শাস্তি দেওয়া হলো ?
বুধবার লোকসভায় প্রস্তাবটি গৃহীত হওয়ার পর তৃনমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Kalyan Banerjee) চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশনের অবশিষ্ট সময়ের জন্য সাসপেন্ড করা হয়। সংসদীয় শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি বজায় রাখার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ তিনি লোকসভার বাকি বাদল অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে পারবেন না, সভাকক্ষে বসতে বা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না এবং কোনও বিতর্কে বক্তব্য রাখতে পারবেন না। তবে তাঁর সাংসদ পদ বাতিল হয় নি। সাসপেনশনের মেয়াদ শেষ হলে তিনি আবার স্বাভাবিকভাবে লোকসভার কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন।
কী জানালেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়?
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এই শাস্তির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং তিনি কোনও অসংসদীয় মন্তব্য করেননি। বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে বলেও তাঁর অভিযোগ।
এই ঘটনাকে ঘিরে সংসদে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। সংসদে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং মহিলা সদস্যদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করার প্রশ্নে এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বর্ষাকালীন অধিবেশনের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা থেকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতি তৃনমূলের সংসদীয় কার্যক্রমেও কোনও প্রভাব ফেলে কিনা সেটাই দেখার।


