Aaj India Desk, কলকাতা : বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির সংকল্প পত্র ও নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল অন্নপূর্ণা ভান্ডার (Annapurna Bhandar) প্রকল্প। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালু করা লক্ষ্মীর ভান্ডারের ১৫০০ টাকার পরিবর্তে বাংলার নারীদের মাসে ৩০০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল বিজেপি। ক্ষমতায় আসার পর খাতায় কলমে অন্নপূর্ণা ভান্ডার চালু হলেও আজ বিরোধীদের প্রশ্নের মুখে পড়েছে এই প্রকল্প।
একাধিকবার নিয়ম পরিবর্তনের অভিযোগ
‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ (Annapurna Bhandar) প্রকল্প চালুর পর থেকে আবেদন ও যোগ্যতার শর্তে একাধিকবার পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিরোধী দলের অভিযোগ, প্রকল্পের প্রাথমিক ঘোষণার সময় যে প্রক্রিয়া ছিল, তাতে পরে ধাপে ধাপে আটবার নতুন নথি, যাচাই ব্যবস্থা এবং যোগ্যতার শর্ত যুক্ত হয়েছে। এর ফলে অনেক আবেদনকারীকে বারবার নতুন নিয়ম মেনে আবেদন বা তথ্য সংশোধনের প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে হয়েছে।
প্রথমে বিজেপির সংকল্পপত্রে জানানো হয়েছিল, যোগ্য মহিলা আবেদনকারীরা সহজ প্রক্রিয়ায় প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। পরে উপভোক্তাদের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত তথ্য ও নথি চাওয়া শুরু হয়। এরপর আবেদনপত্রের সঙ্গে বিভিন্ন নথি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও বিস্তৃত করা হয়। অনলাইন আবেদন ও নথি আপলোড বাধ্যতামূলক করার ফলে অনেক আবেদনকারীকে নতুনভাবে আবেদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযুক্তি (DBT Active) নিশ্চিত করার শর্ত যুক্ত করা হয়। এরপর সমস্যা দেখা যাওয়ায় ফের পারিবারিক যোগ্যতা ও আয় সংক্রান্ত মানদণ্ড নিয়ে পরিবর্তন আনা হয়। সরকারি চাকরি, পেনশন বা পরিবারের আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে আবেদন বাতিলের বিধানও দেওয়া হয়। ফর্মের পৃষ্ঠা সংখ্যা ১২ থেকে বাড়িয়ে ১৩ করে দেওয়া হয়। এই ধারাবাহিক পরিবর্তনের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং অনেক আবেদনকারী প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়েছেন বলে দাবি বিরোধীদের।
হয়রানির শিকার সাধারণ মানুষ
অন্নপূর্ণা ভান্ডার (Annapurna Bhandar) প্রকল্পের নিয়ম ও আবেদন প্রক্রিয়ায় বারবার পরিবর্তনের ফলে সাধারণ উপভোক্তাদের একাধিকবার সরকারি শিবির, দুয়ারে সরকার ক্যাম্প, ব্লক অফিস বা বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে যেতে হয়েছে। নতুন নথি জমা, তথ্য সংশোধন, আধার সংযুক্তিকরণ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যাচাই এবং অনলাইন আবেদন সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে গিয়ে বহু আবেদনকারীকে তীব্র দাবদাহের মধ্যেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার প্রবীণ ও প্রযুক্তিতে অনভ্যস্ত মহিলাদের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে। যদিও রাজ্য সরকারের বক্তব্য, এই সমস্ত পদক্ষেপের উদ্দেশ্য প্রকৃত উপভোক্তাদের শনাক্ত করা এবং সরকারি অর্থ সঠিক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়া।


