Aaj India Desk, কলকাতা: বিধানসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কমিটি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (PAC)-র চেয়ারম্যান পদে কে বসবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, এই পদটি সাধারণত বিরোধী দলের কোনও বিধায়ককে দেওয়া হয়। অতীতেও দেখা গিয়েছে, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এমন ব্যক্তিকেই এই দায়িত্বে বসিয়েছেন, যিনি বিরোধী শিবিরের মধ্যেই বিতর্কের কারণ হয়ে উঠেছিলেন।
এবারও সেই ধরনের কৌশল নেওয়া হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা। শোনা যাচ্ছে, ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)-কে পিএসি-র চেয়ারম্যান করা হতে পারে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলে ভাঙনের ছবি স্পষ্ট। দলের একাধিক নেতা-সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে দূরত্ব তৈরি করেছেন। ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন এনসিপিআই নামে নতুন একটি দলের সঙ্গে গিয়ে এনডিএ-কে সমর্থন করেছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ফিরহাদ হাকিম ইতিমধ্যেই কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। বৃহস্পতিবার সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়, যখন বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের সময় তাঁকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও জাভেদ খানের পাশে বসতে দেখা যায়। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে যে, তাঁকেই হয়তো পিএসি-র চেয়ারম্যান করা হতে পারে।
পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি বা পিএসি হল বিধানসভার এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি, যা রাজ্য সরকারের আয়-ব্যয়ের হিসাব খতিয়ে দেখে এবং সরকারি খরচে স্বচ্ছতা বজায় রাখার কাজ করে। সেই কারণেই এই কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে সাধারণত বিরোধী দলের প্রতিনিধিকেই বেছে নেওয়া হয়।
আগের তৃণমূল সরকারের সময়ও এই পদে ছিলেন প্রয়াত মুকুল রায় এবং আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল। দু’জনই বিজেপির টিকিটে নির্বাচিত হলেও পরে তৃণমূলে যোগ দেন। সেই সময় বিরোধী দল আপত্তি জানালেও তৎকালীন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, সংসদীয় নিয়ম মেনেই এই নিয়োগ করা হয়েছে।
এবারও সেই একই ধারা বজায় রেখে ফিরহাদ হাকিমকে পিএসি-র চেয়ারম্যান করার সম্ভাবনা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। যদিও তাঁর ক্ষেত্রে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও দলবদল হয়নি। তিনি এখনও কাগজে-কলমে তৃণমূলেরই সদস্য, যদিও বিজেপির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ নিয়ে নানা রাজনৈতিক গুঞ্জন রয়েছে।


