Aaj India Desk, কলকাতা : এক দিনেরও কম সময়ের ব্যবধানে ফের ধাক্কা তৃণমূল কংগ্রেসে। প্রদীপ সরকার, গৌতম দেব সহ একের পর এক তৃনমূল নেতা পদত্যাগ করছেন। যাদের উপর ভরসা রেখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁদেরই অনেককে এখন সংগঠনের ভেতর থেকে সরে যেতে দেখা যাচ্ছে। আস্থার ভিত ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছে বিরোধী শিবিরে। এই আবহেই ফের আলোচনায় প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (Jyotipriya Mallick) বা ‘বালু’। সদ্য জাতীয় কর্ম সমিতিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরই শুক্রবার তিনি দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা।
কী বললেন জ্যোতিপ্রিয়?
তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগের পর স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে উঠে এসেছে দলবদলের জল্পনা। ফিরহাদ হাকিমের মতো একাধিক নেতা পদ থেকে সরে গিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করছেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৈরি সেই বিদ্রোহী শিবিরে যোগদানও করেছেন বহু বিধায়ক। অন্যদিকে লোকসভায়ও ভাঙনের ফলে ২০ জন সাংসদ NCPI দলে যোগ দিয়েছেন। এই অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসছে দলবদলের প্রশ্ন। তবে সেই জল্পনায় জল ঢেলেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (Jyotipriya Mallick)।
তাঁর কথায়, “আমার ৩৫০-এর উপর সুগার। কিডনি খারাপ হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় দলের কোনও কাজকর্মে আমি এখন যুক্ত থাকতে পারছি না। তাই সব পদ ছেড়ে দিলাম।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অসুস্থতার কারণেই তাঁর পক্ষে সক্রিয় রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (Jyotipriya Mallick), যিনি রাজনৈতিক মহলে ‘বালু’ নামেই পরিচিত। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন এবং একাধিকবার বিধায়ক ও মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন।দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিভিন্ন সময়ে তাঁর প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন। রেশন দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পরেও প্রকাশ্যে তাঁর পাশে দাঁড়াতে দেখা গিয়েছিল তৃণমূল নেতৃত্বকে। জাতীয় কর্ম সমিতিতে তাঁর অন্তর্ভুক্তিও মমতার তাঁর প্রতি আস্থাকেই ফের প্রকাশ্যে এনেছিল। তবে সেই আস্থা ভেঙেই ইস্তফা দিলেন তিনি।


