Aaj India Desk, কলকাতা : গত এক মাসে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক সাংসদ, বিধায়ক ও শীর্ষ নেতা দল থেকে দূরত্ব বাড়িয়েছেন বা প্রকাশ্যে নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অসন্তোষ উগরে দিয়েছেন। তাঁদের অনেকের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এবং তাঁর নেতৃত্বের ধরন। সেই তালিকায় কি এবার আরও একটি বড় নাম যোগ হতে চলেছে? শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে উঠছে সেই প্রশ্নই।
হঠাৎ মামলা ছাড়লেন কল্যাণ
সই জালিয়াতি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) পক্ষে এতদিন আদালতে সওয়াল করা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার আচমকাই সেই মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। সাথে তাঁর ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কিছু জুনিয়র আইনজীবীও এই মামলা ছেড়ে দেন। একই দিনে কলকাতা হাই কোর্ট অভিষেককে সিআইডির সামনে হাজির হয়ে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেয়। আদালতের শুনানির আগে কল্যাণের এই সরে দাঁড়ানো বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষ ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এরপর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) আচরণ নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভও উগরে দেন। তিনি জানান, অভিষেকের ‘অহংকার’ তিনি মেনে নিতে পারছেন না এবং প্রয়োজনে তিনি বিষয়টি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে তুলবেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “এত ঔদ্ধত্য আমি মেনে নিতে পারছি না। ও সবাইকে নিজের থেকে নিচুতে মনে করে। সবাই যেন ক্যামাক স্ট্রিটের কর্মচারী। আমি এই পেশায় ৪৫ বছর আছি। তবু এত ঔদ্ধত্য! অভিষেক দলে থাকলে আমি দলে থাকব কিনা তা ভাবতে হবে।”
তাঁর এই মন্তব্যের পর থেকেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও দল থেকে দূরত্ব বাড়ানোর পথে হাঁটছেন নাকি এটি শুধুই সাময়িক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
অভিষেককে ঘিরে ক্ষোভের আগুন
এর আগেও একাধিক তৃনমূল নেতা অভিষেককে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এমনকি দলের সাংসদদের একাংশের বক্তব্য, অভিষেক দলটিকে শেষ করে দিয়েছেন। নেতারা দেখা করতে চাইলে তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা, টাকা লুঠ, দুর্নীতি প্রভৃতি অভিযোগ তোলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনকি মমতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি নিজের অহংকারের জেরে দলীয় কর্মীদের সাথে রীতিমতো দুর্ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি অবৈধ নির্মাণ, মদের ব্যবসায় দুর্নীতি নিয়েও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এই অবস্থায় দলের বিশ্বাসভাজন কল্যাণের মুখ থেকে একই অভিযোগ ওঠায় ফাঁপরে পড়েছেন অভিষেক।
বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূলের সাংগঠনিক অবস্থান, নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষের জেরে বিধানসভায় ও লোকসভায় তৃনমূলের দলের ভেতরেই তৈরি হয়েছে বিদ্রোহ । সেই প্রেক্ষাপটে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য ইঙ্গিত করছে যে দ্রুত হয়তো তিনিও এই বিদ্রোহী শিবিরেই নাম লেখাতে পারেন।


