Aaj India Desk, কলকাতা: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনেই (By-election) বড় ব্যবধানে জয় পেল বিজেপি (BJP)। ১৫ রাউন্ডের গণনা শেষে নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ ১ লক্ষ ২২ হাজার ৭৫৩ ভোটে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার জিতেছেন ৭৫ হাজার ৭৪৮ ভোটে। দুই কেন্দ্রে দলের এই জয়ে স্বাভাবিকভাবেই খুশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে আগামী দিনের নির্বাচনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। শুভেন্দু বলেন, সামনে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার নির্বাচন রয়েছে। সেই ভোটেও বিজেপি বড় ব্যবধানে জয় পাবে বলে তিনি আশাবাদী। আগামী বছর অন্যান্য পুরসভা এবং তার পরের বছর পঞ্চায়েত নির্বাচনেও ধারাবাহিকভাবে জিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সেই সাফল্য উপহার দিতে চান বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
বিজেপি সরকার গঠনের পর রাজ্যের নির্বাচনী ফলাফলের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, ফলতার পুনর্নির্বাচনে মানুষ বিজেপিকে বিপুল সমর্থন দিয়েছিলেন। এবার নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনেও সেই ছবিই দেখা গেল। নন্দীগ্রামে হাসিরানি রথের জয়কে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি, নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ৬০টি বুথেও বিজেপি এগিয়ে রয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, সরকারের উন্নয়নের কাজে সংখ্যালঘু মানুষও সামিল হয়েছেন।
সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগরের ফল নিয়েও মুখ খোলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ না করে সব সম্প্রদায়ের মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করেছেন। নির্বাচনী বিধি চালু থাকায় হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারেননি এবং সেই কারণে রেজিনগরে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেননি বলেও জানান তিনি। তবে সেখানকার মানুষের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে উন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা পূরণ করার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিরোধীদেরও এদিন কড়া বার্তা দেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, রাজ্যের মানুষ এখন বিজেপির দিকেই ঝুঁকছেন। আগামী দিনে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার নির্বাচনেও বিরোধীরা এর প্রমাণ পেয়ে যাবেন। মানুষের কাছে বিরোধীদের বক্তব্য আর আগের মতো গুরুত্ব পাচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এছাড়াও, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে সংখ্যালঘু ভোটের সমর্থন পাওয়ার দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, নন্দীগ্রামে সংখ্যালঘু ভোটের ৮০ শতাংশ এবং রেজিনগরে ৬০ শতাংশ ভোট বিজেপি পেয়েছে। নির্বাচনের আগে যে ফলের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তারই প্রতিফলন ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। সাংবাদিক বৈঠকে রেজিনগরে ৭৫ হাজার ৬৯১ এবং নন্দীগ্রামে ১ লক্ষ ২২ হাজার ১৩৬ ভোটে এগিয়ে থাকার হিসাবও তুলে ধরেন শুভেন্দু।


