Aaj India Desk, কলকাতা: এবার পশ্চিমবঙ্গে দু’দফায় ভোট (Vote) হচ্ছে । প্রথম দফার ভোটে রেকর্ড হারে ভোট পড়েছে। কমিশনের হিসাবে মোট ভোটের হার ৯৩.১৯ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম বেশি। তবে কিছু বুথের ভোটের হিসাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে যে প্রথম দফায় মোট ৩১ হাজার ২৩৪টি বুথে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। মোট ভোটার ছিলেন প্রায় ৩ কোটি ৩৬ লক্ষ। এর মধ্যে ১৮২টি বুথে ভোট পড়েছে ৯৯ শতাংশ। অর্থাৎ, যদি কোনও বুথে ১০০ জন ভোটার থাকেন, তাহলে ৯৯ জন ভোট দিয়েছেন। এত বেশি ভোট কীভাবে সম্ভব, তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ভোট পড়া বুথগুলির তালিকায় নন্দীগ্রামের একটি বুথও রয়েছে। এছাড়া প্রথম দফার ৪৪টি কেন্দ্রে ৯৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে।
বিরোধীদের প্রশ্ন, কোনও বুথে কি সত্যিই প্রায় ১০০ শতাংশ ভোট পড়া সম্ভব? যদিও নির্বাচন কমিশনের একাংশের মত, প্রথম দফায় বড় কোনও অশান্তি বা গোলমালের খবর সামনে আসেনি। অনেক জায়গাতেই মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে বেরিয়েছেন, তাই ভোটের হার এত বেশি হয়েছে।
তবে কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মক পোলের সময় ইভিএম পরীক্ষা করার জন্য যে ভোট দেওয়া হয়, তা যদি ঠিকমতো মুছে না দেওয়া হয়, তাহলেও ভোটের হিসাবে এমন সংখ্যা দেখা যেতে পারে। সেই কারণেই ওই ১৮২টি বুথের প্রিসাইডিং অফিসারদের রেকর্ড আবার খতিয়ে দেখা হবে। যদি কোথাও ভুল ধরা পড়ে, তাহলে ইভিএমের নিয়ম অনুযায়ী সেই অতিরিক্ত ভোট বাদ দেওয়া সম্ভব বলেও জানানো হয়েছে। যদিও এমন ঘটনা এবারই প্রথম নয়। আগের লোকসভা বা বিধানসভা ভোটেও অনেক বুথে এমন বেশি ভোট পড়ার ঘটনা দেখা গিয়েছে। তবে এবার সেই সংখ্যা তুলনায় কম বলেই অনেকে মনে করছেন।
যে সব বিধানসভা এলাকায় এমন বুথ পাওয়া গেছে, তার মধ্যে রয়েছে কোচবিহারের দিনহাটা, সিতাই, মাথাভাঙা, আলিপুরদুয়ারের কালচিনি, পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম, মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জ, সুতি, রঘুনাথগঞ্জ এবং বীরভূমের সিউড়ি ও বোলপুর। এখন এই অতিরিক্ত ভোট শেষ পর্যন্ত কোন দলের পক্ষে যাবে, সেই হিসাব কষতে শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলি।


