Aaj lndia Desk, কলকাতা: নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ধাক্কা এখনও সামলে উঠতে পারেনি দেশটি। বিপর্যয়ের কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। একদিকে চলছে মৃতদেহ উদ্ধারের কাজ, অন্যদিকে নিখোঁজদের সন্ধান অব্যাহত। এরই মধ্যে বিপুল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে নেপালের মানুষের জন্য প্রার্থনা জানালেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ( Sourav Ganguly)।
সাহায্য করেছেন কি না, প্রশ্ন উঠতেই নীরব ‘দাদা’
সামাজিক বিভিন্ন কাজে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (Sourav Ganguly)-র পাশে থাকার নজির রয়েছে। তবে নিজের করা সাহায্য বা দান নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করতে সাধারণত স্বচ্ছন্দ নন তিনি। নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রেও সেই বিষয়টি সামনে এল। তাঁকে জানতে চাওয়া হয়, দুর্গত নেপালবাসীর জন্য তিনি কোনও আর্থিক বা অন্য ধরনের সাহায্য করেছেন কি না। কিন্তু সরাসরি সেই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান সৌরভ।
‘মাই প্রেয়ার্স আর উইথ দেম’, কী বললেন সৌরভ?
নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে সৌরভ জানান, তাঁর প্রার্থনা বিপর্যস্ত মানুষের সঙ্গে রয়েছে। এমন ভয়াবহ ধাক্কা একটি গোটা দেশকে স্তব্ধ করে দিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যারা এই বিপর্যয়ের পরও প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন, তাঁদের অত্যন্ত সৌভাগ্যবান বলে উল্লেখ করেন ‘দাদা’। পাশাপাশি দ্রুত নেপাল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরুক এবং ভবিষ্যতে এমন ভয়াবহ দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি না হোক, সেই আশাও প্রকাশ করেন।
মৃত ১১২৭ পার, নিখোঁজ প্রায় ৪৮৫৮
এদিকে নেপালের পরিস্থিতির ভয়াবহ ছবিটা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ১,১২৭ ছাড়িয়েছে। এখনও প্রায় ৪,৮৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে উদ্ধারকারী দলগুলির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্গম এলাকাগুলিতে পৌঁছে নিখোঁজদের খোঁজ করা।
ভারত-চিনের সহযোগিতার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ সংসদে জানিয়েছেন, এই দুর্যোগ মোকাবিলায় ভারত ও চিনের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা পেয়েছে তাঁর দেশ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশ থেকেই প্রযুক্তিবিদ পাঠানো হয়েছিল। প্রথম থেকেই আকাশপথে নজরদারি এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করা হয়।
কাদা-পলিতে কঠিন হয়ে পড়ে উদ্ধারকাজ
শাহ আরও জানান, পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর ভারতীয় প্রযুক্তিবিদরা দুর্গম এলাকাতেও পৌঁছতে সক্ষম হন। কিন্তু বন্যার পর বিপুল পরিমাণ কাদা ও পলি জমে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। অনেক জায়গায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে খননযন্ত্র তো দূরের কথা, সেনা ও সশস্ত্র পুলিশকর্মীদের দাঁড়ানোর জায়গাটুকুও পাওয়া যাচ্ছিল না। এই পরিস্থিতিতে নেপাল দ্রুত ঘুরে দাঁড়াক এটাই এখন সৌরভ-সহ বহু মানুষের প্রত্যাশা।


