কলকাতা: নভেম্বরের সম্ভাব্য পুরভোটকে (KMC Election) সামনে রেখে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস (Delimitation) ঘিরে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নবান্নের নির্দেশ ছিল প্রতিটি ওয়ার্ডে গড়ে ১৬ হাজার ভোটার রেখে সমান প্রতিনিধিত্ব ও সম-উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তোলা। কিন্তু খসড়া তালিকায় উঠে এসেছে একাধিক অসঙ্গতি, যা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক, দুই স্তরেই প্রশ্ন তুলেছে।
ডিলিমিটেশনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- প্রতি ওয়ার্ডে লক্ষ্যমাত্রা: ১৬,০০০ ভোটার
- বর্তমান ওয়ার্ড সংখ্যা: ২০৯
- প্রশাসনিক কারণে সম্ভাব্য বৃদ্ধি: ২১১টি ওয়ার্ড
- গাইডলাইন মানা হয়নি: অন্তত ৪৫টি ওয়ার্ডে
- ১২টি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা: ১৮,০০০-এর বেশি
- ৬২ নম্বর ওয়ার্ডে অভিযোগ অনুযায়ী ভোটার: ৩২,০০০-এরও বেশি
- ৩২টি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা: ১৩,৫০০-এর কম
- চূড়ান্ত মানচিত্র: এখনও প্রকাশিত হয়নি
কেন উঠছে সম-উন্নয়নের প্রশ্ন?
একদিকে ১৩–১৪ হাজার ভোটারের ওয়ার্ড, অন্যদিকে ৩২ হাজারের বেশি ভোটারবিশিষ্ট ওয়ার্ড! এই বৈষম্য একই প্রশাসনিক কাঠামোয় সমান পরিষেবা ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা কঠিন করে তুলতে পারে। ওয়ার্ডভিত্তিক উন্নয়ন, কাউন্সিলরের দায়িত্ব এবং নাগরিক পরিষেবার ভারসাম্য নিয়েই এখন মূল বিতর্ক।
বিরোধীদের অভিযোগ
তৃণমূল, বাম ও কংগ্রেসের দাবি:
- বিজেপিকে পুরভোটে (KMC Election) সুবিধা দিতে ওয়ার্ড সীমানা ইচ্ছামতো নির্ধারণ করা হয়েছে।
- নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে ভোটার সংখ্যা সমান রাখা হয়নি।
- রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে পুরো প্রক্রিয়ায় যথাযথভাবে যুক্ত করা হয়নি।
পুরসভার অবস্থান
পুর কমিশনার ও প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, ডিলিমিটেশন (Delimitation) নিয়ে জমা পড়া সমস্ত লিখিত অভিযোগ দ্রুত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও ওয়ার্ড সীমানা চূড়ান্ত হয়নি, ফলে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।
সামনে কী হতে পারে?
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এসআইআর ট্রাইবুন্যালের মুলতুবি ভোটার সংক্রান্ত মামলাগুলির নিষ্পত্তির পর বহু ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা বদলাতে পারে। তাই চূড়ান্ত ডিলিমিটেশন (Delimitation) প্রকাশের আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ৪৫টি অসামঞ্জস্যপূর্ণ ওয়ার্ডে কীভাবে সমান প্রতিনিধিত্ব ও সম-উন্নয়নের ভারসাম্য আনা হবে?


