Aaj India Desk, কলকাতা : ২০৭ টি আসনে জয়ী হয়ে বিজেপি সরকার গঠন করতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে। কিন্তু তার আগেই উঠে আসছে নতুন প্রশ্ন। রাজ্যের প্রায় ৪৫ হাজার দুর্গাপুজো কমিটিকে দেওয়া ১.১০ লক্ষের আর্থিক অনুদান চালু থাকবে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। (Puja Committee Funding)
২০১৮ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রাজ্য সরকারের তরফে প্রতিটি নিবন্ধিত দুর্গাপুজো কমিটিকে ১.১০ লক্ষ করে অনুদান দেওয়া হচ্ছিল। প্রায় ৪৫ হাজার কমিটিকে এই অনুদান দেওয়ায় মোট ব্যয় হয়েছিল আনুমানিক ₹৪৯৫ কোটি। সঙ্গে বিদ্যুৎ বিলে ৮০ শতাংশ ছাড় এবং অন্যান্য ফি মাফের সুবিধাও দেওয়া হয়েছিল। যদিও সেইসময় বিজেপি নেতারা এই প্রকল্পকে ‘ভোট কেনার চেষ্টা’ এবং ‘জনগণের টাকার অপব্যবহার’ বলে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছিলেন।(Puja Committee Funding)
বিজেপির দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচনে জেতার আগেই বলেছিলেন যে জনকল্যাণমূলক খাতে টাকা খরচ করা উচিত, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সরাসরি অনুদান দেওয়া উচিত নয়। তবে দুর্গাপূজা বাংলার সাংস্কৃতিক প্রাণ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় উৎসব। হঠাৎ বন্ধ করলে হিন্দুদের মধ্যেই ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। আবার বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক ৯০% সেই হিন্দু গোষ্ঠীর উপরই নির্ভরশীল। ফলে ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে সেই ভোটব্যাঙ্ককে চটানোর মত কাঁচা কাজ বিজেপি সরকার করবে না। নতুন সরকার অনুদান পুরোপুরি বন্ধ না করে তার রূপ বদলাতে পারে। অন্যদিকে অনুদান চালু রাখলে তা সরকারের জনসংযোগেও সহায়ক হতে পারে। বিজেপি ইতিমধ্যে পূজা কমিটি ও স্থানীয় ক্লাবগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। পৌরসভা দখলের জন্য দল যুবকদের সংগঠিত করতে সাংস্কৃতিক কর্মসূচি, খেলাধুলা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পের উপর জোর দিতে পারে বলে সূত্রের দাবি। (Puja Committee Funding)
বিজেপির ‘ভরসার শপথ’ ইস্তাহারে দুর্গাপূজা অনুদানের সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও দল বারবার ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’ গঠন, নারী নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বাংলার প্রধান সাংস্কৃতিক উৎসব দুর্গাপূজাকে সমর্থন করে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন নতুন সরকারের কাছে চ্যালেঞ্জ।


