Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : গত সোমবারই বাতিল করা হয়েছে NEET 2026 পরীক্ষা। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাজধানীতে বিক্ষোভও করেন ন্যাশনাল স্টুডেন্টস’ ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়ার (NSUI) কর্মীরা। কিন্তু কোনো সুরাহা না মেলায় বুধবার সকালে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে দিল্লির শাস্ত্রী ভবনের সামনে প্রতিবাদে সামিল হয় ছাত্র সংগঠন SFI। বুধবারের এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন SFI-এর সর্বভারতীয় সভাপতি আদর্শ এম সাজি, সর্বভারতীয় যুগ্ম সভাপতি ঐশী ঘোষ, দিল্লি রাজ্য সভাপতি সুরজ এলামন-সহ একাধিক ছাত্র-ছাত্রী। এই প্রতিবাদ মিছিল চলাকালীনই তাঁদের আটক করে দিল্লি পুলিশ।
কেনো বাতিল পরীক্ষা ?
রাহুল গান্ধীর দাবি অনুযায়ী, পরীক্ষার ৪২ ঘণ্টা আগেই WhatsApp-এ পরীক্ষার প্রশ্ন বিক্রি করা হয়। পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় NTA।
কী দাবি জানায় SFI ?
SFI-এর দাবি, NEET 2026 পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশের বহু পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে আয়োজনের দাবি জানানো হয়। প্রতিবাদকারীদের বক্তব্য, পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আস্থা বজায় রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
প্রতিবাদ এখন অপরাধ ?
এই বিক্ষোভ চলাকালীনই পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। সেই সময় আদর্শ এম সাজি, ঐশী ঘোষ ও সুরজ এলামন-সহ একাধিক কর্মী-সমর্থককে আটক করা হয়। সংগঠনের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশ অপ্রয়োজনীয়ভাবে হস্তক্ষেপ করেছে। যদিও এই ঘটনায় দিল্লি পুলিশের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ নাগরিক অধিকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আন্দোলন ও বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশি হস্তক্ষেপ, আটক এবং নিয়ন্ত্রণের ঘটনায় বারবার উঠছে একটাই প্রশ্ন। প্রতিবাদই কি এখন অপরাধ হয়ে উঠছে? বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও যুব সমাজের আন্দোলনের ক্ষেত্রে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক। মত প্রকাশের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের পরিসর ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। অন্যদিকে প্রশাসনের যুক্তি, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই নাগরিক স্বাধীনতা বনাম প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠছে।


