Aaj India Desk, কলকাতা : রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফেরানোর লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা দুর্নীতি তদন্ত সংক্রান্ত একাধিক ফাইল খুলে তদন্ত শুরু করা হবে। এর ফলে শিক্ষা, পুরসভা এবং সমবায় দপ্তরের কয়েকজন অভিযুক্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে এখন চার্জশিট দাখিল বা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালাতে পারবে সিবিআই।
কেন আটকে ছিল তদন্ত?
কোনও সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে তদন্ত বা চার্জশিট দাখিল করতে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের অনুমতি প্রয়োজন। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, আগের সরকার সেই অনুমতি দীর্ঘদিন ধরে মঞ্জুর করেনি। তাঁর অভিযোগ, এর ফলে প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা একাধিক ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) কথা অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই চারটি মামলায় তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশের কপি CBI-র কাছেও পৌঁছে গিয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মানুষ নতুন সরকারের কাছে স্বচ্ছ প্রশাসন আশা করছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের সরকারের নীতি হবে জিরো টলারেন্স। কোনও বেআইনি কাজ বরদাস্ত করা হবে না।” শিক্ষা দুর্নীতি, পুরসভার নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়ম এবং সমবায় দফতরের একাধিক অভিযোগের তদন্ত এখন নতুন করে গতি পেতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা।
খুলবে নারদার ফাইল ?
পুরোনো ফাইল খোলার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করার পরেই রাজনৈতিক মহলে উঠেছে প্রশ্ন। ২০১৪ সালে নারদা স্টিং অপারেশনে বিভিন্ন নেতা-মন্ত্রীদের দুর্নীতি মামলায় ঘুষ নিতে দেখা যায়। সেই সময় রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসে যেখানে তাঁকেও এভাবে ঘুষ নিতে দেখা যায়। নারদার ম্যাথিউ স্যামুয়েল নিজে বলেছিলেন যে তিনি শুভেন্দুর অফিসে গিয়ে টাকা দিয়েছিলেন। এমনকি তৃণমূলে থাকাকালীন শুভেন্দু CBI ও ED-এর জেরায় টাকা নেওয়ার কথা স্বীকারও করেছিলেন। তবে তৃনমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে আর তেমন অগ্রগতি হয়নি। শুভেন্দু নিজে একে “কনস্পিরেসি” বলে দাবি করে বলেছিলেন তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নারদা ছাড়া অন্য কোনো প্রমাণিত অভিযোগ নেই।
সেই বহু চর্চিত নারদার ফাইল খুলবে কিনা তা নিয়েই এখন চলছে জল্পনা। তৃনমূল কংগ্রেসের দুর্নীতির বিরুদ্ধে একাধিক পুরোনো ফাইল খোলার নির্দেশ দিলেও নিজে যে দুর্নীতি মামলায় যুক্ত , শুভেন্দু অধিকারী সেই মামলার পুনরায় সঠিক তদন্ত করতে দেবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে জনতার মনে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নারদা মামলা খোলা শুধু স্বচ্ছতার পরীক্ষা নয়, বরং শুভেন্দু অধিকারীর নৈতিকতা ও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বাস্তব প্রয়োগেরও পরীক্ষা। এবার এই ফাইল আদৌ খোলে নাকি নব্য মুখ্যমন্ত্রীর তরফে নতুন বার্তা দেওয়া হয়, সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।


