Aaj India Desk, শ্রীনগর : সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি (BJP) সরকার ঈদ-উল-আজহার আগে ১৪ বছরের বেশি বয়সী গবাদি পশু যেমন গরু, বলদ, মহিষ বলির অনুমতি দিয়েছে। যদিও তার জন্য সার্টিফিকেট লাগবে। এছাড়া সর্বসমক্ষেও বলি দেওয়া যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই শুক্রবার জম্মুতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বজরং দল।
রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ
১৪ বছরের বেশি বয়সী গবাদি পশু বলির অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ তুলে রাস্তায় নেমে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কুশপুতুল পোড়ায় বজরং দলের কর্মীরা। একই সঙ্গে “বঙ্গাল সরকার হায় হায়” স্লোগানও তোলা হয় বিক্ষোভ কর্মসূচিতে।
বজরং দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বিজেপি (BJP) রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত হিন্দু সংগঠনগুলির একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রতিবাদকারীরা জানান, তারা এই নীতির বিরোধিতা করছেন এবং বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি তুলেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, সংগঠনের কর্মীরা প্রকাশ্যে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর কুশপুতুলে আগুন দিচ্ছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন ছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রাজ্য সরকারের তরফে এখনও এই বিক্ষোভ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সমর্থক থেকেই সোজা বিরোধী ?
বজরং দলের মতো সংঘ বা সংগঠনগুলো বিজেপির (BJP) মূল সমর্থক। অথচ সেই সমর্থকরাই এবার বিরোধিতা করতে শুরু করেছে নব্য সরকারের। এর মধ্যে দিয়ে একদিকে যেমন হিন্দুত্ববাদী ভোটব্যাঙ্ককে সন্তুষ্ট রাখার চাপ স্পষ্ট, তেমনই অন্যদিকে একটি গোটা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদের দায়িত্বে থেকে শুভেন্দু অধিকারীর আইন-শৃঙ্খলা, অর্থনীতি ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংঘাত এড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টাও ফুটে উঠেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই দ্বন্দ্ব বিজেপির রাজনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে। যদি সরকার বজরং দলের মতো সংগঠনগুলিকে খুশি করার চাপে বলি নিয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়, তবে তা বাংলার অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ধ্বংস করতে পারে। আবার মধ্যপন্থা বজায় রেখে চললে দলীয় অসন্তোষ বাড়বে। এর ফলে বজরং দল-সহ সংঘ পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হতে পারে বাংলার বিজেপি নেতৃত্বের। এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই নিয়ে কী পদক্ষেপ নেন, সেটাই দেখার।


