32 C
Kolkata
Wednesday, April 22, 2026
spot_img

বঙ্গে নারী শক্তির প্রতিশ্রুতি, শাসিত রাজ্যে নীরবতা? মোদীর দ্বিমুখী বুলি নিয়ে সরব অভিষেক ! 

Aaj India Desk, কলকাতা : প্রথম দফার নির্বাচনের আগেই বাংলা এখন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বিজেপি (BJP) ও তৃণমূলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও দোষারোপের রাজনীতিতে উত্তাল বঙ্গ। তবে প্রথম থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার বাংলায় নারী ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন। বিজেপি ক্ষমতায় এলেই যে বাংলার নারী সুরক্ষা পাবে এ কথা বিজেপির ঘোষণাপত্রের মুখ্য কথা। তবে সম্প্রতি সেই প্রতিশ্রুতি নিয়েই জনমানসে সন্দেহ তৈরি করে দিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

এর আগেও প্রধানমন্ত্রীকে একাধিকবার এমন মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছে যা অনেকের মতে ‘লিঙ্গবৈষম্যমূলক’। ২০১৮ সালে সোনিয়া গান্ধীকে বিধবা বলে উল্লেখ করে তিনি মন্তব্য করেন, “ইয়ে কংগ্রেস কি কৌন সি বিধবা থি জিসকে খাতে মে পয়সা যাতা থা?” সম্প্রতি বাংলার নির্বাচনী প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেন, “দিদি, এই দিদি”। বিরোধী হলেও মহিলাদের নিয়ে এবং একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে এভাবে ব্যঙ্গ করা কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়েই পাল্টা প্রশ্ন করেন তৃনমূল কংগ্রেসের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বুধবার একটি এক্স (পূর্বে টুইটার) পোস্টের মাধ্যমে স্পষ্ট বলেন, “বিজেপি উত্তরপ্রদেশ ও বিহার থেকে বাংলায় এই পরিবর্তনই আনার কথা বলছে।”

উল্লেখ্য, ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (NCRB)-র তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিজেপি শাসিত রাজ্য যেমন রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ এবং মধ্যপ্রদেশে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। অন্যদিকে, অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (ADR) ও ন্যাশনাল ইলেকশন ওয়াচের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ১৩৪ জন সাংসদ ও বিধায়কের বিরুদ্ধে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধ সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। এই তালিকাতেও বিজেপির সাংসদ ও বিধায়কের সংখ্যাই সর্বাধিক।

বিজেপির (BJP) শাসনকালে হাতরাস মামলা থেকে শুরু করে বিলকিস বানো মামলায় আজও বিরোধীরা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করেন। যদিও বিজেপি শিবিরের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছে যে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, কাকতালীয়ভাবে ২০২৩ সালে গুজরাটে বিলকিস বানোর ধর্ষকদের বিজেপি বিধায়ক এবং সাংসদের সাথে একই মঞ্চে দেখা গিয়েছিল। সম্প্রতি বিজেপি নেতা কর্মীদের সমাজ মাধ্যমেও বিরোধী মহিলাদের কেন্দ্র করে ধর্ষণমূলক হুমকি দিতে দেখা গিয়েছে। মণিপুরের জ্বলন্ত ঘটনায়ও প্রধানমন্ত্রী সেখানের মহিলাদের সাথে কথা বলার প্রয়োজন বোধ করেননি। অথচ বাংলার ভোট প্রচারে এসে মহিলা সুরক্ষাই বিজেপির প্রধান নির্বাচনী ইস্যু হয়ে উঠেছে।

স্বাভাবিকভাবে বাংলার নির্বাচনের সময় বিজেপির (BJP) বক্তব্য ও বিজেপি শাসিত রাজ্যের বাস্তব অবস্থানের মধ্যে ফারাক নিয়ে ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ উঠছে রাজনৈতিক মহলে। যদিও বিজেপি এই অভিযোগ মানতে রাজি নয়। এখন ৪ই মে ভোটের ফল কী বার্তা দেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন