Aaj India Desk, কলকাতা : টালিগঞ্জে বহু দিন ধরেই ফিসফাস ছিল। কেউ প্রকাশ্যে বলতেন না, কিন্তু অন্দরমহলে ঘুরত চাপ, অপমান, কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো নানা অভিযোগের গল্প। বুধবার সেই চাপা অস্বস্তিই যেন আচমকা প্রকাশ্যে উঠে এল টেকনিশিয়ান্স স্টুডিওর এক বৈঠকে। আর সেই বৈঠকের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। (Parambrata Chattopadhyay)
কী বলেছেন পরমব্রত ?
ফেডারেশনের সঙ্গে সংঘাতের সময় প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনা নিয়ে এ দিন সরাসরি মুখ খোলেন পরমব্রত (Parambrata Chattopadhyay)। তাঁর বক্তব্য, “সেদিন আমার সদ্যজাত সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে, দাঁতে দাঁত চেপে ক্ষমা চেয়েছিলাম। আর কোনও উপায় ছিল না তাই।” অভিনেতার এই মন্তব্য ঘিরে বৈঠকে উপস্থিতদের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং ইন্ডাস্ট্রির সহকর্মীদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতেই তিনি এই কথা বলেছেন বলে জানান তিনি।
ফেডারেশন-সংক্রান্ত বিরোধের সময় শুধুমাত্র পরমব্রত নন, পরিচালক অনির্বাণ ভট্টাচার্য, জয়দীপ মুখোপাধ্যায় এবং শ্রীজিৎ রায়-এর মতো একাধিক নামও বিতর্কে জড়িয়েছিল। সেই সময় অনেককেই প্রকাশ্যে অবস্থান বদলাতে দেখা যায়। পরমব্রতের (Parambrata Chattopadhyay) এ দিনের মন্তব্যে সেই পুরনো বিতর্ক নতুন করে সামনে এল।
দীর্ঘ অভিযোগ টেকনিশিয়ানদেরও ?
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক টেকনিশিয়ানও দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। কারও অভিযোগ, মত না মেলাতেই কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কেউ আবার মানসিক হেনস্থা ও চাপের কথাও উল্লেখ করেন। কয়েক জন সরাসরি প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও তোলেন।
কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো বৈঠকে ?
বৈঠকের শেষে রুদ্রনীল ঘোষ আশ্বাস দেন, টলিউডের শিল্পী, টেকনিশিয়ান এবং প্রযোজকদের সমস্ত অভিযোগ ও দাবির কথা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি জানান, এই দায়িত্ব শুধু তাঁর একার নয়, ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত অন্য বিধায়ক-অভিনেতারাও বিষয়টি নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করবেন। রুদ্রনীলের দাবি, নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য হল টলিউডে কাজের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং এমন পরিস্থিতি তৈরি করা, যেখানে রাজনৈতিক মতাদর্শ কোনও শিল্পীর কাজ বা সুযোগের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।


