Aaj India Desk, কলকাতা : সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের তরফে জারি করা বকরিদ উপলক্ষে গবাদি পশু জবাই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি নিয়ে সরগরম ছিল রাজ্য। এর পরেই গরু বলি ও বিক্রি নিয়ে কর্মসংস্থানে প্রভাব পড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালতে মামলা দায়ের করেন তৃনমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। তবে এবার সরাসরি সেই মামলা খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
কী নিয়ে মামলা করা হয়েছিল ?
আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী জবাই নিয়ন্ত্রণ আইনের ১২ নম্বর ধারার আওতায় ধর্মীয় কারণে বিশেষ ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে রাজ্য সরকারের। সেই ছাড় না দেওয়ায় বকরিদের সময় ধর্মীয় আচার পালনে বাধা তৈরি হচ্ছে বলেও আদালতে দাবি ওঠে। এই মামলাগুলির মধ্যে একটি দায়ের করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক আখরুজ্জামান। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও (Mahua Moitra) আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন।
কী জানালো আদালত ?
আদালত জানিয়ে দিয়েছে, গরু কোরবানি ঈদ-উল-আযহার অপরিহার্য ধর্মীয় অংশ নয়। একইসঙ্গে, রাজ্যের জারি করা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আবেদনও খারিজ করে দিয়েছে আদালত। তবে আদালত এ-ও জানায়, অন্য অনুমোদিত পশুর কোরবানির ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার আইনের আওতায় কোনও ছাড় দেওয়া যায় কি না, তা বিবেচনা করতে পারে।
উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারের ১৩ মে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বকরিদকে সামনে রেখে গবাদি পশু জবাই নিয়ে একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন মেনে নির্দিষ্ট শর্ত ছাড়া কোনও অবস্থাতেই গরু, বাছুর, ষাঁড়, বলদ ও মোষ জবাই করা যাবে না। এই বিজ্ঞপ্তিতে পশুর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত শংসাপত্রও বাধ্যতামূলক করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ীই রাজ্য প্রশাসন ইতিমধ্যেই ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে বেআইনি পশু জবাই রুখতে বিভিন্ন জেলায় নজরদারি বাড়িয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা মেনে কোরবানি প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতিও জোরদার করা হয়েছে। এর মধ্যে আদালতের এই রায় রাজ্য সরকারের বিধিনিষেধকেই মান্যতা দিলো। এবার তৃনমূল কংগ্রেস এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


