Aaj India Desk, কলকাতা: সোশ্যাল মিডিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বিতর্কিত ছবি পোস্ট করার অভিযোগে শেষ পর্যন্ত কালীঘাট থানার ওসি গৌতম দাসকে (Gautam Das) সাসপেন্ড করল কলকাতা পুলিশ। ভোটের আবহে এই ঘটনায় প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
কেনো সাসপেন্ড করা হলো ?
দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে বদলি হয়ে স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চ থেকে কালীঘাট থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন গৌতম দাস (Gautam Das)। পয়লা মে নিজের ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাসে একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন তিনি। সেই ছবিতে তাঁকে পুলিশি পোশাকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায়। ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল, “Ready for new assignment” বা “নতুন দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত”।
এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পরই তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা শুরু হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার সেই পোস্টকে “আইনবিরোধী ও উদ্বেগজনক” বলে দাবি করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানান। উর্দি পরা অবস্থায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে এই ধরনের পোস্ট নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বলে জানান তিনি। বিষয়টি নজরে আসতেই তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ এবং পরবর্তীতে তাঁকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কে আসছেন নতুন দায়িত্বে ?
গৌতম দাসের (Gautam Das) জায়গায় কালীঘাট থানার নতুন ওসি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে চামেলি মুখোপাধ্যায়কে। তবে এই সিদ্ধান্তে খুশি পুলিশ মহল। দীর্ঘদিন কোনো মহিলা ওসি নিয়োগ না হওয়ার কারণে লিঙ্গবৈষম্যের অভিযোগ উঠেছিল কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে। ২০১০ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত দেবশ্রী চট্টোপাধ্যায় ছিলেন কলকাতার একমাত্র মহিলা ওসি। এরপর শেষ পর্যন্ত বিতর্কের মাঝেই নতুন মহিলা ওসি নিয়োগ ঘিরে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা।
সব মিলিয়ে, সোশ্যাল মিডিয়ায় পুলিশ আধিকারিকের বিতর্কিত পোস্ট ঘিরে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, এই পরিস্থিতিতে আবার নির্বাচনকালীন আচরণবিধি ও দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন সামনে উঠে এসেছে। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, পুলিশ আধিকারিকদের ভোট পরবর্তী সময়ে পেশাগত সংযম ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা উচিত।


