Aaj India Desk, হুগলি : পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট শুরু আগামী ২৯ শে এপ্রিল। তার আগেই হুগলিতে (Hooghly) শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। সংখ্যালঘু ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠছে হুগলি জেলার খানাকুলে।
সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে (ভিডিওটির সত্যতা AAJ INDIA যাচাই করেনি) দেখা যায়, হুগলির (Hooghly) খানাকুলে বিজেপি পঞ্চায়েত প্রধান সরস্বতী দাস ইচ্ছাকৃত রাস্তা আটকাচ্ছেন যাতে মুসলিম ভোটারদের যাতায়াত বাধাগ্রস্ত করা যায়। সেখানে কিছু বিজেপি কর্মীকে “মুসলিম গুলোকে ভোট দিতে দেওয়া যাবে না” জাতীয় মন্তব্য করতেও শোনা যায়।
ভোটাধিকার ভারতীয় সংবিধানের একটি মৌলিক অধিকার। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা আইনত দণ্ডনীয়। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুসারে, ভোট প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা MCC এর গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচ্য। পঞ্চায়েত প্রধানের মতো জনপ্রতিনিধির কাছে সকল সম্প্রদায়ের প্রতি নিরপেক্ষ আচরণ প্রত্যাশিত। সেখানে এই ধরনের অভিযোগ ঘিরে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়। হুগলির (Hooghly) খানাকুলের এই ঘটনা বিজেপির নির্বাচনী কৌশল, সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টি ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ‘শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা বলে মন্তব্য করে বিরোধী দল।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯০ লক্ষেরও বেশি নাম কাটা পড়েছে, যার মধ্যে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলিতে মুসলিম ভোটারদের অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানেই আবার বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের মতো নেতারা প্রকাশ্যে বলেছেন যে মুসলিম ভোট চাওয়ার প্রয়োজন নেই।
এর আগে ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ একাধিক বিজেপি নেতা মুসলিমদের সম্পর্কে ‘অনুপ্রবেশকারী’ ও ‘ভোট জিহাদ’-এর মত মন্তব্য করেছিলেন। এই ধরনের বক্তব্য ও কাজকর্ম বহুকাল থেকেই বিজেপির হিন্দু ভোট গঠনের কৌশল। তবে একজন জননেতাকে সকল শ্রেণি, ধর্ম, বর্ণের মানুষের সেবা করার অঙ্গীকার করতে হয়। ফলে এই ধরনের পঞ্চায়েত প্রধান পদে আসীন থাকাকালীন এই ভাবে প্রকাশ্যে সংখ্যালঘু মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব করার চেষ্টা এবং তাদের সম্পর্কে ঘৃণ্য, হুমকিমূলক মন্তব্য করায় সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।


