কলকাতা: লালকেল্লার ন্যায় এবার নবান্ন থেকে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ দিতে চলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)? ১৫ আগস্টের আগে এমনটাই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিজেপি সূত্রের খবর, আগামী ১৫ আগস্ট রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে দল। নতুন সরকার গঠনের পর এটাই মুখ্যমন্ত্রীর সামনে সবচেয়ে বড় জন-বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ বলে মনে করছে বিজেপির একাংশ।
দলীয় সূত্রের দাবি, দু’দিন আগেই এই প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বিজেপির মতে, সরকার গঠনের পর স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যবাসীর প্রত্যাশা বেড়েছে। কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, পরিকাঠামো, আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসনিক সংস্কার-সহ একাধিক বিষয়ে আগামী পাঁচ বছরে সরকারের অগ্রাধিকার কী হবে, সেই রূপরেখা মানুষের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।
দলের এক নেতার দাবি, “এটি শুধু স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছাবার্তা হবে না। নতুন সরকারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দর্শন তুলে ধরারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হতে পারে।” তাঁর মতে, স্বাধীনতা দিবসের মতো আবেগঘন দিনে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হলে তা রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ হবে।
বিজেপির অন্দরে আলোচনা, স্বাধীনতা দিবসের বার্তার মাধ্যমে নতুন সরকারের প্রথম দিকের কাজের অগ্রাধিকার, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হতে পারে। একই সঙ্গে উন্নয়ন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং সুশাসন নিয়ে সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট করার সুযোগ রয়েছে। বিজেপি সূত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, এই প্রস্তাবের পিছনে একটি রাজনৈতিক ভাবনাও রয়েছে।
দলের বক্তব্য, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে স্বাধীনতা দিবসে মুখ্যমন্ত্রীরা রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বার্তা দেন। বিজেপির দাবি, গত ১৫ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে এ ধরনের কোনও নির্দিষ্ট বার্তা দেননি। সেই কারণেই নতুন সরকারের আমলে এই প্রথা চালু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
তবে এই বিষয়ে এখনও মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। সরকার ও দলের শীর্ষ স্তরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত তিনি এই প্রস্তাবে সম্মতি দেন কি না, তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হতে পারে।
ফলে এখন রাজনৈতিক মহলের নজর ১৫ আগস্টের দিকে। স্বাধীনতা দিবসে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা কি শুধু শুভেচ্ছাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সেখান থেকেই নতুন সরকারের আগামী দিনের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক রূপরেখার ইঙ্গিত মিলবে? সেই উত্তর মিলতে পারে খুব শিগগিরই।


