30 C
Kolkata
Friday, August 7, 2026
spot_img

NDA-তে নেই, BJP-র সঙ্গেও নয়—তবু মোদীর ডাকে ‘হ্যাঁ’! বঙ্গ রাজনীতিতে আদপে কী ‘খেলা’ খেলছেন তিন সংখ্যালঘু সাংসদ?

কলকাতা: দু’টি এনডিএ বৈঠকে দেখা যায়নি। বিজেপির সঙ্গে দূরত্বের কথাও প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন। এমনকি শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলাদা বৈঠক ঘিরেও তৈরি হয়েছিল জল্পনা। অথচ শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) ডাকা প্রাতঃরাশ বৈঠকে ঠিকই হাজির হলেন মুর্শিদাবাদের তিন সংখ্যালঘু সাংসদ খলিলুর রহমান (Khalilur Rahman), আবু তাহের খান (Abu Taher Khan) এবং ইউসুফ পাঠান (Yusuf Pathan)। ফলে প্রশ্নটা এখন শুধু তাঁরা বৈঠকে গেলেন কি না, তা নয়, বরং, মোদীর ডাকে সাড়া দিয়ে তাঁরা আসলে কী রাজনৈতিক বার্তা দিলেন?

তিন সাংসদের অবস্থান আপাতদৃষ্টিতে বেশ স্পষ্ট। তাঁরা এনসিপিআই-এর সঙ্গে আছেন, কিন্তু বিজেপির সঙ্গে নেই। এনডিএ-র মঞ্চে তাঁদের অনুপস্থিতিও সেই দূরত্বেরই ইঙ্গিত দিয়েছিল। কিন্তু একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে হাজির হওয়া দেখিয়ে দিল, বিজেপির সঙ্গে রাজনৈতিক দূরত্ব আর কেন্দ্রের সঙ্গে সাংবিধানিক-প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ, এই দুটিকে তাঁরা এক করে দেখছেন না। এখানেই তৈরি হচ্ছে নতুন রাজনৈতিক কৌতূহল।

কারণ, বাংলার রাজনীতিতে সংখ্যালঘু ভোট দীর্ঘদিন ধরেই মূলত তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত। সেই প্রেক্ষাপটে মুর্শিদাবাদের তিন সংখ্যালঘু সাংসদের এই ‘দুই দূরত্বের’ কৌশল গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে বিজেপির সঙ্গে সরাসরি জোট বা রাজনৈতিক সখ্যের বার্তা তাঁরা দিচ্ছেন না, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীকে এড়িয়ে যাওয়ার পথও নিচ্ছেন না। অর্থাৎ, ‘বিজেপির সঙ্গে নয়, কিন্তু দিল্লির সঙ্গেও সংঘাত নয়’—এই অবস্থানই কি তাঁদের নতুন রাজনৈতিক কৌশল?

এখানে আরও একটি দিক গুরুত্বপূর্ণ। এনডিএ-র বৈঠকে অনুপস্থিত থাকা ছিল একটি রাজনৈতিক সংকেত। কিন্তু মোদীর (Narendra Modi) ডাকা প্রাতঃরাশে যোগ দেওয়া তার সম্পূর্ণ বিপরীত সংকেত না হলেও অন্তত একটি নরম বার্তা। এর অর্থ হতে পারে, তাঁরা নিজেদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা বজায় রেখেই কেন্দ্রীয় ক্ষমতার সঙ্গে যোগাযোগের দরজা খোলা রাখতে চাইছেন।

বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের মতো রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর জেলায় এই কৌশলের তাৎপর্য কম নয়। জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপি-বিরোধী অবস্থান বজায় রেখেও কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ না করার মধ্যে সাংসদদের জন্য প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক, দুই ধরনের বাস্তব হিসেব থাকতে পারে।

তবে এটিকে এখনই বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়া হিসেবে দেখলে সম্ভবত অতিসরলীকরণ হবে। বরং ঘটনাটি দেখাচ্ছে, রাজনীতিতে ‘সঙ্গে থাকা’ আর ‘কথা বলা’, দুটিকে আলাদা রাখার চেষ্টা চলছে। আর এখানেই তৃণমূলের জন্যও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। কারণ, সংখ্যালঘু রাজনীতির ক্ষেত্রে বিরোধী শিবিরের কোনও সাংসদ যদি একই সঙ্গে বিজেপি-বিরোধী অবস্থান ধরে রেখে মোদীর (Narendra Modi) সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক যোগাযোগ রাখেন, তাহলে তা বাংলার প্রচলিত ‘দুই মেরুর’ রাজনীতির বাইরে একটি নতুন স্পেস তৈরি করতে পারে।অবশ্য এর পরবর্তী পদক্ষেপই আসল। একটি প্রাতঃরাশ বৈঠকে যোগ দেওয়া নিছক সৌজন্য, নাকি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত, তা বোঝা যাবে তাঁদের পরবর্তী অবস্থান, ভোটাভুটি এবং সংসদীয় রাজনীতিতে আচরণ থেকে।

এই মুহূর্তে তাই তিন সাংসদের রাজনীতিকে এক কথায় বলা যায়, দূরত্ব বজায় রেখেও দরজা বন্ধ নয়। আর বাংলার রাজনীতিতে সেটাই হয়তো সবচেয়ে কৌতূহলের জায়গা। এটা কি নিছক সৌজন্য? নাকি আগামী দিনের সমীকরণে নিজেদের দর-কষাকষির জায়গাটা আরও শক্ত করার ‘খেলা’?

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন