Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : জাতের ভিত্তিতে নয়, পরিবারের আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে সরকারি সুবিধা, শিক্ষা ও সংরক্ষণ (Reservation) দেওয়ার দাবিতে শুক্রবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখালেন ‘আনরিজার্ভড’ শ্রেণির প্রতিনিধিরা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, কোনও পরিবার বা পড়ুয়ার আর্থিক অবস্থা দুর্বল হলে সরকারি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে সেটিকেই প্রধান মাপকাঠি করা উচিত। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে বৈষম্য রোধ, ইউজিসির ‘ইক্যুইটি’ বিধি নিয়ে আপত্তি এবং SC/ST (Prevention of Atrocities) Act-এর অপব্যবহার রোধের দাবিও তোলা হয়।
‘জাত নয়, দরিদ্রদের জন্য সংরক্ষণ’
যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে একাধিক প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। তাঁদের অন্যতম স্লোগান ছিল, ‘Reservation for the poor, not for caste’ অর্থাৎ জাতের পরিবর্তে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য সংরক্ষণের দাবি। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, একই আর্থিক সমস্যায় থাকা দুই পড়ুয়া শুধুমাত্র জাতিগত পরিচয়ের কারণে কেন সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে আলাদা অবস্থানে থাকবে, তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
শিক্ষা ও কোচিংয়ে আর্থিক মাপকাঠির দাবি
বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, উচ্চশিক্ষা, কোচিং, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং অন্যান্য সরকারি সহায়তার ক্ষেত্রে পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তাঁদের মতে, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পড়ুয়াদের সহায়তার জন্য একটি অভিন্ন ব্যবস্থা প্রয়োজন। তাঁদের বক্তব্য, শুধুমাত্র জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সরকারি সুবিধা বা ছাড় (Reservation) পাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। আর্থিকভাবে দুর্বল পড়ুয়াদের জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।
ইউজিসির বিধি নিয়েও আপত্তি
বিক্ষোভে ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন বা UGC-র ‘ইক্যুইটি’ বিধি নিয়েও আপত্তি জানান অংশগ্রহণকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, সমতার নামে এমন কোনও ব্যবস্থা থাকা উচিত নয়, যার ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনও নির্দিষ্ট শ্রেণির পড়ুয়ার মধ্যে বৈষম্যের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এ বিষয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানানো হয়।
বিক্ষোভকারীদের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল SC/ST (Prevention of Atrocities) Act প্রত্যাহার। তাঁদের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে এই আইনের অপব্যবহার হতে পারে এবং তার জেরে অনেকেই সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই আইনটির অপব্যবহার ঠেকাতে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।


