Aaj India Desk, কলকাতা: পরিবর্তনের আবহের মধ্যেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) বড় প্রশাসনিক রদবদল। কয়েকদিন ধরেই স্লোগান, দেওয়াল লিখন এবং ছাত্রদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। দিন পনেরো আগে জিবি মিটিংকে ঘিরে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন (SFI) এবং এবিভিপির (ABVP) মধ্যে সংঘর্ষের জেরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছিল। সেই ঘটনা নিয়ে মুখও খুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এর মধ্যেই এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্তরে বড় সিদ্ধান্ত নিলেন রাজ্যপাল তথা আচার্য আর এন রবি (RN Robi)।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবং ভারপ্রাপ্ত ফিনান্স অফিসারকে সরিয়ে নতুন দু’জনকে দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আচার্যের নির্দেশে বলা হয়েছে, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডল এবং ভারপ্রাপ্ত ফিনান্স অফিসার শিলাদিত্য চট্টোপাধ্যায়ের দায়িত্ব অবিলম্বে শেষ করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁদের জায়গায় আগামী ছ’মাসের জন্য নতুন দু’জনকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
কেন এই বদল? আচার্যের নির্দেশে মূলত উঠে এসেছে ‘অ্যাক্টিং’ পদে থাকার মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, অস্থায়ীভাবে কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার সময়সীমা সর্বোচ্চ ছ’মাস। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবং ফিনান্স অফিসারের ব্যবস্থা চালু ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে স্থায়ী রেজিস্ট্রার এবং স্থায়ী ফিনান্স অফিসার নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এগজিকিউটিভ কাউন্সিল যথাযথ পদক্ষেপ করেনি বলেও নির্দেশে উল্লেখ রয়েছে। আচার্যের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এই অস্থায়ী ব্যবস্থা চলতে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ, শিক্ষাব্যবস্থা এবং আর্থিক পরিচালনায় সমস্যা তৈরি হতে পারে।
নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ছ’মাস যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব সামলাবেন ড. দেবজিৎ দত্ত। অন্যদিকে ফিনান্স অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ড. ইন্দ্রজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে।পাশাপাশি স্থায়ী রেজিস্ট্রার এবং স্থায়ী ফিনান্স অফিসার নিয়োগের জন্য নিয়ম মেনে দ্রুত প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশও দিয়েছেন রাজ্যপাল তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আর এন রবি। ফলে ছাত্র বিক্ষোভের আবহের মধ্যেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্তরে এই বড় পরিবর্তন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।


