Aaj India Desk, নয়াদিল্লী: ডিপফেক, ভুয়ো খবর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার নিয়ে এবার আর কোনও অজুহাত শুনতে রাজি নয় কেন্দ্র। সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থা মেটাকে (Meta) এবার তাদের অ্যালগোরিদমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY)। শুধু তাই নয়, বেআইনি বা বিকৃত কনটেন্ট কীভাবে দ্রুত চিহ্নিত করে প্ল্যাটফর্ম থেকে সরানো হবে, তার বিস্তারিত পরিকল্পনাও কেন্দ্রের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।
মেটাকে কী কী নির্দেশ দিল কেন্দ্র?
সম্প্রতি কেন্দ্রের সঙ্গে মেটার প্রতিনিধিদের একটি বৈঠক হয়। সেই বৈঠকেই সংস্থাটিকে একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রথমত, ডিপফেক, ভুয়ো তথ্য এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট দ্রুত শনাক্ত করার জন্য মেটাকে নিজেদের অ্যালগোরিদম আরও উন্নত করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, এই ধরনের কনটেন্ট যাতে সহজেই নজর এড়িয়ে যেতে না পারে, সেই অনুযায়ী প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, কোনও সরকারি সংস্থা বা অনুমোদিত কর্তৃপক্ষ যদি কোনও বেআইনি বা আপত্তিকর কনটেন্টের বিষয়ে জানায়, তাহলে সেটি দ্রুত সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি ভারতের তথ্য সংরক্ষণ ও ডেটা-লোকালাইজেশন সংক্রান্ত নিয়মও যথাযথভাবে মানতে হবে।
তৃতীয়ত, ডিপফেক বা বিকৃত ছবি-ভিডিয়োর মতো বিষয় দ্রুত মোকাবিলার জন্য সরকারের কুইক রেসপন্স টিমের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে মেটাকে।
মেটার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা
বৈঠকে মেটার প্রযুক্তিগত দলের পক্ষ থেকে তাদের বর্তমান কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করা হয়েছে। পাশাপাশি, সমস্যা মোকাবিলায় নতুন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
তবে শুধু আশ্বাসেই বিষয়টি শেষ করতে চাইছে না কেন্দ্র। ভারতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম হিসেবে মেটা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অধীনে নির্ধারিত মধ্যস্থতাকারী বা ‘ইন্টারমিডিয়ারি’ নিয়মগুলি ঠিকমতো মেনে চলছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মেটার কাছ থেকে পাওয়া রিপোর্ট ও তথ্য পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। সেই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেওয়া হচ্ছে।
কোথা থেকে শুরু হল এই কড়াকড়ি?
কেন্দ্রের এই অবস্থানের পিছনে রয়েছে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ফেসবুক পোস্ট মেটার প্ল্যাটফর্ম থেকে আচমকাই সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ওই পোস্টে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
পরে মেটার পক্ষ থেকে জানানো হয়, পোস্টটি সরিয়ে ফেলার ঘটনা আসলে একটি প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ঘটেছিল। সংস্থাটি এজন্য দুঃখপ্রকাশও করে এবং পরে পোস্টটি আবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
কিন্তু মেটার এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় এবং মেটার শীর্ষ আধিকারিকদের তলব করা হয়। এর পরেই ডিপফেক, ভুয়ো খবর এবং বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তা দেয় কেন্দ্র। আপাতত মেটা ও সরকারের মধ্যে আলোচনা চলবে। তবে সমস্যাগুলির পুরোপুরি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মেটার কাজকর্মের উপর কেন্দ্রের নজরদারি আরও কড়া থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।


