Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : ২৪ দিন ধরে চলা অনশন ভাঙছেন না সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় সোমবারই হাতে লেখা এক চিঠিতে তিনি জানিয়েছিলেন, আন্দোলনরত ছাত্র প্রতিনিধিদের সংসদ ভবনে গিয়ে সাংসদদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ না দেওয়া হলে, অথবা সাংসদরা হাসপাতালে এসে তাঁদের সঙ্গে কথা না বললে তাঁর অনশন চলবে। নাড্ডার বৈঠকের পর নিজের কথায় অটল রইলেন তিনি।
হাসপাতাল থেকে স্পষ্ট বার্তা
সোমবার রাতে ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk) স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো তাঁর স্বামীর হাতে লেখা ও স্বাক্ষরিত চিঠি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন। সেখানে ওয়াংচুক লিখেছেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশি লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহারের ঘটনার পর তিনি অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চিঠিতে তিনি বলেন, ছাত্র প্রতিনিধিদের সরাসরি সংসদে নিজেদের বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হলে অথবা সাংসদরা হাসপাতালে এসে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করলে তবেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রের কাছে শিক্ষাব্যবস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকেও মেলেনি সমাধান
সোমবার দুপুরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিনিধি সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আলোচনার জন্য ডেকে পাঠান জে. পি. নাড্ডা। তবে সেখানেও তাদের টানা ৩ ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর মাত্র ১০ মিনিট ধরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি সভাপতি জে. পি. নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করতে দেওয়া হয়। তারা নীট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সরকারের কাছে তিন দফা লিখিত দাবি জমা দেন। এরপর সরকারের পক্ষ থেকে সোনমের আন্দোলন প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হলেও, ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk) অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। তাঁর দাবি, আন্দোলনরত ছাত্রদের কথা সংসদে পৌঁছানোর সুযোগ দিতে হবে।
শারীরিক অবস্থার মধ্যেও অনশন অব্যাহত
১৮ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে পুলিশ ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর শরীরে জলশূন্যতা, পটাশিয়ামের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়া এবং কিটোনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন এবং চিকিৎসকদের দেওয়া স্যালাইন ও ওষুধ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, সোমবার সকালে সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সোনম ওয়াংচুকের বার্তার ভিত্তিতে নিজের অনশন প্রত্যাহার করেন। তিনি আত্মহত্যা করা নীট পরীক্ষার্থী রিয়া থাপার বাবার হাত থেকে ফলের রস পান করে অনশন ভাঙেন। তাঁর বক্তব্য, আন্দোলনকে দীর্ঘমেয়াদে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত। ককরোচ জনতা পার্টির দাবি, নীট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, শিক্ষাব্যবস্থায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং পরীক্ষা সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।


