29 C
Kolkata
Sunday, September 6, 2026
spot_img

‘OG’ থেকে ‘ধুরন্ধর’—মোদীর ভাষণে Gen Z-এর ছোঁয়া, ‘দিমাগি নকশাল’ কটাক্ষে চড়ল উত্তাপ

Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: তরুণ (Youth) প্রজন্মের সঙ্গে আরও বেশি করে যোগাযোগ তৈরি করতে চাইছে বিজেপি (BJP)। দলের সাংগঠনিক কর্মসূচি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে তরুণদের ভাবনা ও পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। এবার সেই ছাপ মিলল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) বক্তব্যেও।

শনিবার গোয়ায় শ্রী রাম কলেজ অফ কমার্সের (SRCC) পড়ুয়াদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার সময় মোদীর কথায় উঠে এল Gen Z-দের মধ্যে জনপ্রিয় বেশ কিছু শব্দ ও ইন্টারনেটের প্রচলিত ভাষা। ‘OG’ শব্দ ব্যবহার করার পাশাপাশি তিনি সাম্প্রতিক জনপ্রিয় ছবি ‘ধুরন্ধর’-এর প্রসঙ্গও টানেন।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন SRCC-তে বক্তব্য রেখেছিলেন মোদী। দীর্ঘ ১৩ বছর পর ফের এই কলেজে পড়ুয়াদের সামনে বক্তব্য রাখলেন তিনি।

‘OG’ অ্যালামনাই থেকে ‘ধুরন্ধর’ প্রসঙ্গ

তরুণদের পরিচিত ভাষাতেই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করার চেষ্টা করেন প্রধানমন্ত্রী। কলেজের প্রাক্তনীদের প্রশংসা করতে গিয়ে তিনি তাঁদের ‘OGs’ বলে উল্লেখ করেন। মোদির কথায়, SRCC-র প্রাক্তনীরা প্রকৃত ‘OG’। তাঁদের অনেকেই জনজীবন, আইন, অর্থনীতি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশ-বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

এর পাশাপাশি জনপ্রিয় সংস্কৃতির প্রসঙ্গও আসে তাঁর বক্তব্যে। সম্প্রতি আলোচনায় থাকা ‘ধুরন্ধর’ ছবির নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ধুরন্ধর না হো, লেকিন ধুম তো মচায়ি হ্যায়।” অর্থাৎ, সবাই হয়তো ‘ধুরন্ধর’ নন, কিন্তু তাঁরা ইতিমধ্যেই যথেষ্ট সাড়া ফেলেছেন।

‘দিমাগি নকশাল’ নিয়ে মোদির ব্যাখ্যা

তবে মোদির বক্তব্যে শুধু তরুণদের পরিচিত শব্দই ছিল না, ছিল রাজনৈতিক আক্রমণের সুরও। নিজের সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে সমালোচকদের নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে দেওয়া ভাষণে তিনি ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। শনিবার সেই মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মোদি সেটিকে হোমিওপ্যাথি ওষুধের সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁর বক্তব্য, হোমিওপ্যাথিতে অনেক সময় শরীরের ভিতরে লুকিয়ে থাকা সমস্যাকে প্রথমে সামনে আনা হয়। একইভাবে ‘দিমাগি নকশাল’ মন্তব্য করার পর উন্নয়নবিরোধী অবস্থান নেওয়া কিছু মানুষ ও মতাদর্শ প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান জানাতে শুরু করেছেন।

‘ঝুঠ কি গুঞ্জ’ থেকে ‘নারাজ ফুফা’

বিরোধীদের রাজনৈতিক প্রচার নিয়েও কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, মিথ্যার প্রতিধ্বনি যতই জোরে শোনা যাক না কেন, শেষ পর্যন্ত সত্য ও বাস্তব উন্নয়নের সামনে তা টিকবে না।

এই প্রসঙ্গে তিনি ‘ঝুঠ কি গুঞ্জ’ বা ‘মিথ্যার প্রতিধ্বনি’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন। তাঁর এই মন্তব্যকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধির ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ ধরনের যুব-কেন্দ্রিক কর্মসূচির পাল্টা কটাক্ষ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

এদিন ‘নারাজ ফুফা’ শব্দবন্ধও ব্যবহার করেন মোদি। স্ট্যাচু অফ ইউনিটি, বন্দে ভারত ট্রেন কিংবা নতুন সংসদ ভবনের মতো একাধিক জাতীয় প্রকল্পের সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি এই শব্দ ব্যবহার করেন। পরিবারের এমন এক আত্মীয়ের সঙ্গে তাঁদের তুলনা করেন প্রধানমন্ত্রী, যিনি কোনও কিছুতেই সন্তুষ্ট নন এবং সবসময় অভিযোগ বা আপত্তি জানাতে থাকেন।

তরুণদের হাতেই ‘বিকশিত ভারত’-এর দায়িত্ব

SRCC-র অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে তরুণদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, ভারতের যুবসমাজের হাতেই রয়েছে দেশের সম্ভাবনাকে আরও বড় শক্তিতে পরিণত করার সুযোগ।

পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে চলা পড়ুয়াদের নৈরাশ্য থেকে দূরে থাকার এবং নতুন ভাবনা ও উদ্ভাবনকে গ্রহণ করার পরামর্শ দেন তিনি। ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য বা ‘বিকশিত ভারত’-এর কথা উল্লেখ করে মোদি বলেন, এই লক্ষ্য পূরণে দেশের তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন