Aaj India Desk, কাঠমান্ডু : ভয়াবহ বন্যার পর নেপালে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন বহু পরিবার। কিন্তু দিনের পর দিন কেটে গেলেও অনেকের দেহ উদ্ধার না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রতীকী শেষকৃত্যের পথ বেছে নিচ্ছেন তাঁরা। পবিত্র কুশঘাস দিয়ে নিখোঁজ ব্যক্তির প্রতিকৃতি তৈরি করে হিন্দু রীতি মেনে শেষকৃত্য (Missing People Cremation) সম্পন্ন করা হচ্ছে কাঠমান্ডুর পশুপতিনাথ মন্দির সংলগ্ন বাগমতী নদীর তীরে।
দেহ নেই, তবু শেষ বিদায়
২৩ বছরের সুজন আচ্ছামি তাঁর নিখোঁজ বাবা দিনেশের জন্য এমনই একটি প্রতীকী শেষকৃত্য (Missing People Cremation) করেন। দিনেশের বয়স ৪১ বছর। নেপালের উত্তরের বারাবিশে পুরসভা এলাকার বাসিন্দা দিনেশ পেশায় চালক ছিলেন। বন্যার সময় তিনি রাসুয়া জেলায় ছিলেন। ওই এলাকাই বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে সুজন কুশঘাস দিয়ে তৈরি প্রতীকী দেহের স্নান করান। এরপর দেওয়া হয় মাটির প্রদীপ ও ফুল। প্রকৃত দেহ না থাকলেও হিন্দু ধর্মীয় রীতি মেনে সম্পন্ন হয় শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা।
১,২০০-র বেশি মৃত্যু, নিখোঁজ প্রায় ৫,০০০
২৬ আগস্ট উত্তর ও মধ্য নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ে ১,২০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৫,০০০ জন এখনও নিখোঁজ। নিখোঁজদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের আশা ক্রমশ কমছে। একইসঙ্গে দেহ উদ্ধার না হওয়ায় বহু পরিবার প্রথাগতভাবে শেষকৃত্যও (Missing People Cremation) করতে পারছেন না। সেই পরিস্থিতিতেই প্রতীকী শেষকৃত্যের সংখ্যা বাড়ছে।
প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত মোট ১,৩৪৪টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে ১,০৩০টি অজ্ঞাতপরিচয় দেহ অস্থায়ীভাবে সমাধিস্থ করা হয়েছে। পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর মাত্র ৯৬টি দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। চিটওয়ান, নুয়াকোট, রাসুয়া, কাঠমান্ডু, পোখারা-সহ নেপালের বিভিন্ন এলাকায় দেহগুলি সমাধিস্থ করা হয়েছে। প্রতিটি দেহের নম্বর নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং সমাধিস্থ করার আগে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে অজ্ঞাতপরিচয় দেহগুলির অস্থায়ী সমাধি নিয়ে নেপালে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, হিন্দু ধর্মীয় রীতির সঙ্গে এই প্রক্রিয়ার সামঞ্জস্য নেই।পশুপতিনাথ মন্দির সংলগ্ন বাগমতীর তীরে দীর্ঘদিন ধরে শেষকৃত্য পরিচালনা করা এক পুরোহিতের মতে, ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পরও তিনি এমন ব্যস্ততা দেখেছিলেন। তবে তখন অধিকাংশ পরিবারের কাছে অন্তত তাঁদের স্বজনের দেহ ছিল।
এবার পরিস্থিতি আলাদা। দেহ না পাওয়ায় কুশঘাসের প্রতিকৃতি ব্যবহার করে প্রতীকী শেষকৃত্য করছেন স্বজনেরা। ওই পুরোহিতের মতে, হিন্দু শাস্ত্রে এই ধরনের প্রতীকী আচার পালনের অনুমোদন রয়েছে। তবে পরিবারের কাছে প্রিয়জনের দেহ না থাকা এবং সেই অবস্থায় শেষ বিদায় জানাতে বাধ্য হওয়াই এই বিপর্যয়ের অন্যতম গভীর মানবিক সংকট।


