Aaj lndia Desk, হুগলি: হুগলির উত্তরপাড়ায় একটি বেসরকারি নার্সিংহোমকে কেন্দ্র করে শনিবার সকালে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। পেটে যন্ত্রণা নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছিল হাওড়ার এক নাবালিকা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অন্য দিকে মোড় নেয়। অভিযোগ, নার্সিংহোমের শৌচাগারে একাই সন্তানের জন্ম দেয় ওই কিশোরী। এরপর সদ্যোজাতকে জানলা দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ (Uttarpara Police Station)।
সাধারণ পেটের ব্যথা ভেবেই হাসপাতালে নিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা
স্থানীয় সূত্রে খবর, শুক্রবার গভীর রাতে শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করে ওই নাবালিকা। পেটে যন্ত্রণা বাড়তে থাকায় পরিবারের লোকজন তাঁকে উত্তরপাড়া পুরসভার (Uttarpara Municipality) ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করেন। পরিবারের দাবি, তাঁদের মেয়ের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কোনও খবরই ছিল না। পেটের সমস্যা ভেবেই চিকিৎসার জন্য তাঁকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
শৌচাগারের জানলা থেকে সদ্যোজাতকে ফেলার অভিযোগ
নার্সিংহোমের মালকিন সুচেতা মুখোপাধ্যায় (Sucheta Mukherjee) জানিয়েছেন, শনিবার সকালে নাবালিকার যন্ত্রণা বাড়লে সে নিজেই হেঁটে শৌচাগারে যায়। সেখানেই একা সন্তানের জন্ম দেয় বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, প্রসবের পর সদ্যোজাতকে শৌচাগারের জানলা দিয়ে নিচে ফেলে দেয় সে।
ঘটনার সময় নার্সিংহোমের নিচে কিছু পড়ার শব্দ শুনতে পান এক যুবক। কাছে গিয়ে তিনি রক্তমাখা অবস্থায় সদ্যোজাতকে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর নার্সিংহোমের এক নার্স দ্রুত সেখানে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে ভিতরে নিয়ে যান।
নার্সিংহোমের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। উত্তরপাড়ার বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী (Dipanjan Chakraborty) থানায় গিয়ে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, নিয়মবিধি না মেনে চলা নার্সিংহোমগুলির বিরুদ্ধেও প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ইতিমধ্যেই ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সদ্যোজাতের শারীরিক অবস্থা, নাবালিকার চিকিৎসা এবং নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের ভূমিকা—সবকিছুই তদন্তের আওতায় রয়েছে। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। তদন্তের পরেই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।


