Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: লোকসভায় ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল পাস না হওয়াকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। এই ইস্যুতে বিরোধী শিবিরকে ‘মহিলা বিরোধী’ বলে আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি (BJP)। পাল্টা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলিও। কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী (Priyanka Gandhi) সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেছেন, “কে সত্যিই মহিলা বিরোধী, তা দেশের মানুষ দেখুক।”
এই রাজনৈতিক সংঘাতের মাঝেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) উদ্দেশে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিরোধী শিবির। সূত্রের খবর, ওই চিঠিতে ২০২৩ সালে পাশ হওয়া মহিলা সংরক্ষণ বিলের ধাঁচে পুরনো প্রস্তাব ফের সংসদে আনার আবেদন জানানো হবে। পাশাপাশি বর্তমান লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার দাবিও জানানো হবে। বিরোধীদের এই পদক্ষেপকে ঘিরে প্রশ্ন উঠছে-মহিলা বিরোধী তকমা কাটাতেই কি নতুন কৌশল নেওয়া হল?
এদিন ইন্ডিয়া জোটের সংসদীয় দলের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা। সেখানেই বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথমত, প্রধানমন্ত্রীকে যৌথভাবে চিঠি পাঠানো হবে। দ্বিতীয়ত, সোমবার ফের সংসদের অধিবেশন ডেকে আগের মহিলা সংরক্ষণ বিল ফের তোলার দাবি জানানো হবে। বিরোধী জোটের দাবি, পুরনো বিল এলে তারা সমর্থন করবে।
সাংবাদিক বৈঠকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, “সরকার এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চেয়েছিল যাতে বিল পাস হলে কৃতিত্ব নেয়, আর ব্যর্থ হলে বিরোধীদের মহিলা বিরোধী বলে প্রচার করতে পারে।” তাঁর দাবি, “আসল আপত্তি মহিলা সংরক্ষণে নয়, আসন পুনর্বিন্যাসের মতো অন্য বিষয়গুলিকে এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়াতেই বিরোধিতা হয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, “বিরোধীরা একজোট হলে কী হতে পারে, তা সরকার বুঝে গিয়েছে বলেই এখন ‘ব্ল্যাক ডে’-র কথা বলা হচ্ছে।”
অন্যদিকে, ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে বিরোধীদের মধ্যে কৌশলগত মতপার্থক্যও সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, কংগ্রেসের তরফে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তৃণমূল কংগ্রেস তা মানেনি। তৃণমূলের বক্তব্য, এই মুহূর্তে যৌথ মঞ্চে আসার প্রয়োজন নেই। বরং প্রত্যেক দল নিজেদের রাজ্যে আলাদাভাবে প্রচার চালাক।
সূত্রের খবর, বৈঠকে ডেরেক ও’ব্রায়েন স্পষ্ট করে জানান, উপস্থিত অনেক দলই জোট রাজনীতির অংশ হলেও তৃণমূল একমাত্র দল যারা বাংলায় বিজেপির বিরুদ্ধে এককভাবে লড়াই করছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সংসদের ভেতরে বিরোধীদের ঐক্য থাকলেও নির্বাচনী ময়দানে সেই সমীকরণ দেখা যাবে না। অর্থাৎ তৃণমূলের বার্তা স্পষ্ট-সংসদে সমন্বয়, কিন্তু ভোটে আপস নয়।


