Aaj lndia Desk, কলকাতা: কালীঘাটে দলীয় কর্মীদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সংগঠন মজবুত করা থেকে শুরু করে আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি একাধিক বিষয়ে কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তবে বৈঠকের পর তাঁর একাধিক মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। পাল্টা আক্রমণে সরব হয়েছেন নব্য তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Bandyopadhyay)।
শনিবার কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেস চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)- এর কার্যালয়ে দলের কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সেখানে তিনি বলেন, তৃণমূলের আদর্শকে সামনে রেখে আগামী দিনেও মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে হবে। একইসঙ্গে সংগঠনকে আরও ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করার বার্তাও দেন তিনি।
বৈঠকে দলবদল প্রসঙ্গেও কড়া অবস্থান নেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ব্যক্তিগত অপরাধের ক্ষমা হতে পারে, কিন্তু বিশ্বাসঘাতকতা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অতীতে যাঁরা দল ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, তাঁদের ফের দলে নেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদারতার কারণেই তাঁদের অনেককে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন অভিষেক। তিনি আরও বলেন, আগামী দু’বছরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সেই লড়াই হবে। তখন যারা দল ছেড়ে যাবে, তাদের আর দলে ফেরানো উচিত নয়। এমনটা হলে তিনি নিজেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন বলেও ইঙ্গিত দেন।
শুক্রবারই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-কে নিশানা করেছিলেন নব্য তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ( Ritabrata Bandyopadhyay)। কালীঘাটে অভিষেকের বক্তব্যের পর ফের তীব্র কটাক্ষ শানান তিনি। ঋতব্রতের দাবি, অভিষেকের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে এবং সেই কারণেই কেন্দ্রীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তাঁর কথায়, লুটপাট নিয়ে অভিষেক যা জানেন, তা মানুষের সামনে তুলে ধরা উচিত। পাশাপাশি কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “অভয়ারণ্য ছেড়ে কালীঘাট মোড়ে এলে বুঝতে পারবেন, মানুষ সবটাই জানে।”
এদিকে, ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসকে সামনে রেখে প্রস্তুতিও জোরকদমে চলছে। এ প্রসঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Bandyopadhyay)- জানান, এবারের কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে শহিদদের স্মরণকে কেন্দ্র করেই হবে। মঞ্চে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে শহিদ পরিবারের সদস্যদের।
কোনও সেলিব্রিটি-কেন্দ্রিক অনুষ্ঠান নয়, রাজনৈতিক কর্মসূচির মর্যাদা বজায় রেখেই শহিদ দিবস পালন করা হবে বলে তিনি স্পষ্ট জানান।


