32.1 C
Kolkata
Friday, August 14, 2026
spot_img

‘নেতাজি নেতাদের নেতা’— অনন্ত মহারাজের শাস্তির পরেই ভোল বদল শমীক ভট্টাচার্যের!

Aaj India Desk, কলকাতা : নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের ‘বঙ্গ বিভূষণ’ সম্মান প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। এই আবহেই হঠাৎ নিজের আগের বক্তব্য থেকে সরে এলেন বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। দলের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি জানিয়েছেন, নেতাজিকে ঘিরে মানুষের আবেগে আঘাত লাগলে দল বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করবে। কোনও সাংসদ বা বিধায়ক বিতর্কিত মন্তব্য করলে দলের সংসদীয় বোর্ড এবং শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টি দেখবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। যদিও তাঁর নিজের করা নেতাজি সংক্রান্ত মন্তব্যটি নিয়ে তিনি কোনো কথা বলেননি।

‘নেতাজি নেতাদের নেতা’

শুক্রবার নেতাজি প্রসঙ্গে শমীক (Samik Bhattacharya) বলেন, “নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু প্রতিটি জাতীয়তাবাদী মানুষের অন্তরের অন্তঃস্থলে তাঁর কালজয়ী সত্ত্বা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত। নেতাজি নেতাদের নেতা।” তাঁর আরও বক্তব্য, নেতাজি ভারতে উপস্থিত থাকলে স্বাধীনতার সময় ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত। তবে একইসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু নেতাজি তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে সেই মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে গিয়েছেন।

সাংসদ-বিধায়কদের মন্তব্যেও নজর

অনন্ত মহারাজের মন্তব্য ঘিরে তৈরি বিতর্কের প্রসঙ্গে শমীক (Samik Bhattacharya) বলেন, নেতাজিকে নিয়ে মানুষের আবেগ আহত হলে দল বিষয়টি নিয়ে ভাববে। তাঁর কথায়, সাংসদ বা বিধায়ক কোনও ধরনের মন্তব্য করলে বিজেপির সংসদীয় বোর্ড রয়েছে এবং দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব বিষয়টি দেখছেন ও দেখবেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি অনন্ত মহারাজের পাশাপাশি নেতাজির তৈরি ফরোয়ার্ড ব্লক ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন খোদ শমীক ভট্টাচার্য। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করে একটি অনুষ্ঠানে শমীক দাবি করেছিলেন, কলকাতার মহম্মদ আলি পার্কে শ্যামাপ্রসাদের একটি বক্তৃতার সময় ফরওয়ার্ড ব্লকের কর্মীরা তাঁকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়েছিলেন। এছাড়াও ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে তৎকালীন পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগের প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেছিলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নাকি সুভাষচন্দ্র বসু ও শরৎচন্দ্র বসুর কাছে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানানোর আবেদন করেছিলেন তবে সুভাষচন্দ্র বসু সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। এই বক্তব্য নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়।

তবে অনন্ত মহারাজকে ঘিরে চলতে থাকা এই বিতর্কের মাঝেই নিজের সেই বক্তব্য থেকে সরে এসে নেতাজির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন তিনি। ফলে আগামী দিনে আদৌ অনন্ত মহারাজ ও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা, তা নিয়ে সন্দিহান রাজ্যবাসী।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন