Aaj India Desk, কলকাতা: রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের পরেই গুণে গুণে দূর্নীতির খাতা খুলছে বর্তমান সরকার । বিজেপি সরকার আসার পর থেকেই এই কাজ শুরু হয়েছে। একের পর এক তৃণমূল নেতার দুর্নীতি জনসাধারণের সামনে পুলিশি অভিযানে উঠে এসেছে । তবে এই দুর্নীতির তালিকা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) ও বাদ পরল না।
মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পরই শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) প্রকাশ্যে অভিষেকের সম্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারপর থেকেই নড়েচড়ে বসে কলকাতা পুরসভা। একে একে নোটিস পৌঁছয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ে (Abhishek Banerjee)-র বাড়ি, তাঁর কোম্পানি এবং পরিবারের সদস্যদের একাধিক ঠিকানায়।পুরসভার দাবি, বিভিন্ন সম্পত্তির নথি ও নির্মাণের খুঁটিনাটি তথ্য চাওয়া হয়েছে। সেই নোটিসের জবাব দিতেই এবার সময় চাইলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী। সূত্রের খবর, সমস্ত নথি একত্র করতে আরও ১০ দিনের সময় চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছে কলকাতা পুরসভার কাছে।
কোথাও বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ, কোথাও আবার সম্পত্তির মালিক বদলের প্রশ্ন। এই সব অভিযোগ ঘিরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের একাধিক ঠিকানায় পরপর নোটিস পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা। মোট ১৭টি নোটিসের মধ্যে ১৪টিই গিয়েছে ৯ নম্বর বরো এলাকা থেকে।এই নোটিস-পর্ব ঘিরে পুর প্রশাসনের অন্দরেই শুরু হয়েছে আলোচনা। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, ৯ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সন পদ থেকে ইস্তফা দেন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবলীনা বিশ্বাস। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এই ঘটনাই।
অন্যদিকে, গোটা বিতর্কে একপ্রকার অস্বস্তিতে পড়েছে পুরসভাও। মেয়র ফিরহাদ হাকিম কখনও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, আবার কখনও দাবি করেছেন এই নোটিস পাঠানোর বিষয়ে তাঁর কাছে আগাম কোনও তথ্যই ছিল না। নোটিস জারি হওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের বহু নেতাকে এই ইস্যুতে দূরত্ব বজায় রাখতে দেখা গিয়েছে। ফলে প্রশাসনিক পদক্ষেপ না রাজনৈতিক চাপ তা নিয়েই এখন চর্চা রাজ্য রাজনীতিতে।


