Aaj India Desk,কলকাতা: দক্ষিণ দমদম ও বিধাননগর পুরনিগমে বেআইনি নির্মাণ এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী (DebrajChakraborty)। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
অভিযোগ, পুরনো তারিখ ব্যবহার করে বেআইনি নির্মাণের নথিতে সই করা হতো। এরপর সেই নির্মাণকে বৈধ বলে দেখানো হতো। শুধু তাই নয়, পুরসভার প্রাপ্য টাকারও একটি অংশ সরকারি তহবিলে না গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে ভাগ হয়ে যেত বলেও অভিযোগ উঠেছে।
দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে এই অভিযোগের একটি উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। স্থানীয় এক ব্যক্তি শিশুদের জন্য একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল তৈরির উদ্দেশ্যে জমি দান করেছিলেন। সেখানে স্কুলও তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ, পরে সেই স্কুল বন্ধ করে সেখানে ব্যাডমিন্টন প্রশিক্ষণকেন্দ্র তৈরি করা হয়। পাশাপাশি পুরসভার স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপর গড়ে তোলা হয় একটি টেনিস অ্যাকাডেমি।
অভিযোগ, এই দুই কেন্দ্র থেকে যে ভাড়া পাওয়া যেত, তার কোনও টাকাই পুরসভার তহবিলে জমা পড়ত না। সেই টাকা ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করা হতো বলেই দাবি।
রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির অভিযোগ, শুধু ক্রীড়াকেন্দ্র নয়, পুরসভার অনুষ্ঠান বাড়িগুলির ভাড়ার টাকাও সরকারি হিসাবে জমা পড়ত না। তাঁর দাবি, এতে দীর্ঘদিন ধরে পুরসভার রাজস্বের ক্ষতি হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়। তরুণজ্যোতি তিওয়ারির আরও অভিযোগ, রাজারহাট-গোপালপুর পুরসভা বিধাননগর পুরনিগমে যুক্ত হওয়ার পরও পুরনো তারিখ দেখিয়ে একাধিক বেআইনি নির্মাণের প্ল্যান পাস করা হয়েছে। এই অভিযোগে তিনি প্রাক্তন পুরপ্রধান তাপস চট্টোপাধ্যায়ের নামও উল্লেখ করেছেন।
তবে তাপস চট্টোপাধ্যায় সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, পুরসভা বিধাননগর পুরনিগমে মিশে যাওয়ার পর কোনও নির্মাণের প্ল্যান পাসের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক ছিল না। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগকে ঘিরে এখন দক্ষিণ দমদম ও বিধাননগরের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।


