Aaj India Desk,দক্ষিণ ২৪ পরগনা: পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের (Assembly Election) প্রচারে বারুইপুরের সভা থেকে এদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ইস্যুতে তৃণমূল (TMC) সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তাঁর অভিযোগ করেন, “একসময় দেশের গর্ব ছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, কিন্তু এখন সেখানে দেশবিরোধী স্লোগান লেখা হয়, ক্যাম্পাসে ভয় দেখানো হয় এবং পড়াশোনার বদলে বিক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।”
মোদী আরও বলেন, “যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম একসময় গোটা বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে নেওয়া হতো। একসময় এই প্রতিষ্ঠানের ভিত ছিল জাতীয়তাবাদ ও শিক্ষার আদর্শ। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে।” তিনি দাবি করেন, “তিনি অরাজকতা নয়, শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চান।” একইসঙ্গে প্রশ্ন তুলে বলেন, “যে সরকার রাজ্যের অন্যতম বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করতে পারে না, তারা বাংলার ভবিষ্যৎ কীভাবে গড়বে।”
প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছে তৃণমূল। দলের মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “যাদবপুরে যাদের ‘টুকরে গ্যাং’ বলা হচ্ছে, তাদের পিছনে বিজেপিরই মদত রয়েছে। বিজেপি সমর্থন না দিলে সেখানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না বলেও দাবি করেন তিনি।”
অন্যদিকে যাদবপুরের অধ্যাপক এবং টালিগঞ্জ কেন্দ্রের বাম প্রার্থী পার্থপ্রতিম বিশ্বাসও বিজেপির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “যাদবপুরের প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের দীর্ঘদিন ধরেই কখনও মাওবাদী, কখনও দেশদ্রোহী বলা হয়। আমরা তো এইসমস্ত কথা শুনতে শুনতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি।কেন্দ্র সরকারের রিপোর্টেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দেশের এক নম্বরে রয়েছে। পড়াশোনা, গবেষণা ও শিক্ষার পরিবেশ ভালো না থাকলে এমন সাফল্য সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, “ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদ গণতন্ত্রের দুর্বলতা নয়, বরং জীবন্ত গণতন্ত্রের চিহ্ন।”
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানান। তিনি লেখেন, “ছাত্রছাত্রীদের প্রশ্ন তোলা বা প্রতিবাদ করা কোনও নৈরাজ্য নয়। বরং সেটাই গণতন্ত্রের শক্তি।” পাশাপাশি মণিপুরের পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনেও তিনি বলেন, “মণিপুর জ্বলছে অথচ তা স্বীকার না করে নির্বাচনে ব্যস্ত থাকাই আসল নৈরাজ্য।”
মমতা আরও লেখেন, “যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় বহু বছর ধরে কেন্দ্রের নিজস্ব NIRF র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছে। সেই প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের অপমান করা ঠিক হয়নি।” তাঁর কথায়, “যাদবপুরের ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের মেধার জোরে জায়গা তৈরি করে এবং তারা প্রশ্ন করার সাহস রাখে। সেটাই প্রকৃত শিক্ষা ও উৎকর্ষের পরিচয়।”


