Aaj India Desk, কলকাতা : AI, 3D অ্যানিমেশন এবং আধুনিক ইমেজিংয়ের যুগে মরণোত্তর দেহদানের (Body Donation) প্রয়োজনীয়তা কি সত্যিই কমে গিয়েছে? এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছিল বিতর্কের সূত্রপাত। চিকিৎসাবিজ্ঞানে মৃতদেহের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসক শরদ্বত মুখোপাধ্যায়ের মন্তব্যের পর পাল্টা সরব হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ।
কী বলেছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী ?
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে অ্যানাটমি শেখার পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। AI, 3D অ্যানিমেশন এবং আধুনিক ইমেজিং প্রযুক্তির মাধ্যমে মানবদেহের গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত শেখানো সম্ভব বলেই তাঁর বক্তব্যের মূল সুর।এই প্রসঙ্গেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর দেহদানের (Body Donation) কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, চিকিৎসাবিজ্ঞানে সেই দেহের বিশেষ ব্যবহার হয়নি। একইসঙ্গে অঙ্গদানের প্রয়োজনীয়তার উপর বেশি জোর দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
কী বলছে বিজ্ঞান মঞ্চ ?
মন্ত্রীর এই বক্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিকর’ এবং ‘অবৈজ্ঞানিক’ বলে দাবি করেছে বিজ্ঞানমঞ্চ। সংগঠনের প্রশ্ন, প্রযুক্তির অগ্রগতি হলেও মরণোত্তর দেহ (Body Donation) কি চিকিৎসাশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় হয়ে যেতে পারে?
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতা করে বিজ্ঞানমঞ্চের যুক্তি, AI বা 3D প্রযুক্তি চিকিৎসাশিক্ষায় সহায়ক হতে পারে, কিন্তু সরাসরি মানবদেহের উপর অ্যানাটমি শেখার সম্পূর্ণ বিকল্প নয়। সংগঠনের বক্তব্য, মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের গঠন, তাদের পারস্পরিক অবস্থান এবং টিস্যুর বৈশিষ্ট্য বোঝার ক্ষেত্রে সরাসরি পর্যবেক্ষণ ও ডিসেকশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গবেষণার ক্ষেত্রেও মরণোত্তর দেহ সংরক্ষণ এবং কঙ্কাল প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে দাবি বিজ্ঞানমঞ্চের।
সংগঠনের দাবি, গণদর্পণ ও বিজ্ঞান মঞ্চের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় দেহদান এবং অঙ্গদানের মতো বিষয় সামাজিক আন্দোলনের রূপ পেয়েছে। মৃত্যুভীতি ও কুসংস্কার কাটিয়ে বহু মানুষ দেহদান ও অঙ্গদানের অঙ্গীকার করছেন। বিজ্ঞানমঞ্চের অভিযোগ, একজন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে যদি দেহদানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নেতিবাচক বার্তা যায়, তাহলে এই সামাজিক আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জ্যোতি বসুর দেহদানের প্রসঙ্গ টেনে করা মন্তব্য তাঁর বিজ্ঞানমনস্কতারও অবমূল্যায়ন করে বলে দাবি সংগঠনের।
স্বাস্থ্য মন্ত্রীর বক্তব্যের পর প্রযুক্তি এগোলেও মানুষের দেহের বিকল্প পুরোপুরি তৈরি হয়েছে কিনা তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। তবে দেহদান যে মৃত্যুর পরও অন্যের জীবনে আলো জ্বালানোর এক মানবিক অঙ্গীকার, তা অস্বীকার করার জায়গা নেই বলে জানিয়েছে বিজ্ঞান মঞ্চ।


