কলকাতা: দিন কয়েক আগেই বর্ধমান থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে জইশ-যোগ সন্দেহে অভিযুক্ত হামিম মণ্ডল (Hamim Mondal)। তদন্তকারীদের দাবি, কাশ্মীরের সঙ্গেও তার যোগাযোগের সূত্র মিলেছে। আর সেই গ্রেপ্তারের পর থেকেই উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির উপর নজরদারি চালানো হত কি না, তারও খোঁজ নিচ্ছেন তদন্তকারীরা।
প্রথমে জানা গিয়েছিল, হামিম হাওড়ার পিলখানায় থাকত। কিন্তু ঠিক কোন এলাকায় তার ডেরা ছিল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। পিলখানার বহু স্থানীয় শ্রমিক ও বাসিন্দা পর্যন্ত তাকে চিনতেন না বলে দাবি করেন। অবশেষে রবিবার সকালে মিলল সেই ঠিকানার হদিশ! পিলখানার আলম মিস্ত্রি লেনের একটি সরু, এঁদো গলির ৭ নম্বর বাড়ি। সেই বহুতলেই রয়েছে ‘গ্যালাক্সি’ নামে একটি গেস্ট হাউস এবং কয়েকটি ছোট ফ্ল্যাট। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, একতলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েই থাকত হামিম (Hamim Mondal)।
স্থানীয়দের মতে, সেখানে তার সঙ্গে থাকতেন এক ব্যক্তি, যাকে সবাই তার বাবা বলে জানতেন। সবচেয়ে রহস্যজনক হল ফ্ল্যাটের ব্যবহার। দুটি ঘরের একটিতে চলত জামার ট্যাগ তৈরির মেশিন, অন্য ঘরে কম্পিউটারে অফিসের কাজ হত। বাইরে থেকে দেখে সাধারণ ছোট ব্যবসা বলেই মনে হত। কিন্তু তদন্তকারীদের প্রশ্ন, এই ব্যবসা কি শুধুই লোক দেখানো ছিল?
ট্যাগ তৈরির আড়ালে কি চলত অন্য কোনও গোপন কাজ? বহুতলের মালিক জানিয়েছেন, প্রায় দু’বছর আগে জায়গাটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। একটি ঘরের ভাড়া ছিল ৭ হাজার টাকা, অন্যটির ৪ হাজার। তবে গত দু’মাস ধরে হামিমকে (Hamim Mondal) এলাকায় দেখা যায়নি বলেও তিনি দাবি করেছেন। গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকে যিনি তার বাবা বলে পরিচিত ছিলেন, তাকেও আর এলাকায় দেখা যাচ্ছে না।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কথায়, হামিমের (Hamim Mondal) বাবার সঙ্গে রাস্তাঘাটে সামান্য কথাবার্তা হত, কিন্তু হামিম নিজে ছিলেন অত্যন্ত গুটিয়ে থাকা মানুষ। গত দশদিন ধরেই সেই ব্যক্তিকেও এলাকায় দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।এতেই নতুন প্রশ্ন উঠছে, যিনি নিজেকে হামিমের (Hamim Mondal) বাবা বলে পরিচয় দিতেন, তিনি সত্যিই মনিরউদ্দিন মণ্ডল কি না, নাকি কোনও বৃহত্তর চক্রের সদস্য ‘বাবা’ সেজে তার সঙ্গে থাকছিলেন?
তদন্তকারীরা এখন সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন। যদিও এখনও পর্যন্ত তদন্ত শেষ হয়নি এবং কোনও অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি, তবু হামিম মণ্ডলকে ঘিরে যে তথ্যগুলি সামনে আসছে, তা যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করছে তদন্তকারী মহল। পিলখানার সেই ছোট ফ্ল্যাটটি এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে।


