Aaj India Desk, নদিয়া: স্বাধীনতা দিবসের দিনই নদিয়ার চাকদহে বোমা বিস্ফোরণকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। দুবড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অন্নপূর্ণা বিশ্বাসের বাড়িতে ঝোপঝাড় পরিষ্কারের কাজ করতে গিয়ে বিস্ফোরণের কবলে পড়েন দুই শ্রমিক। তাঁদের দু’জনেরই আঘাত গুরুতর। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, বাড়ির আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে ঝোপ-জঙ্গল তৈরি হওয়ায় তা পরিষ্কার করার জন্য শ্রমিকদের ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সেই মতো শ্রমিকরা বাড়িতে এসে পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন। সেই সময় আচমকাই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই দু’জন শ্রমিক গুরুতর আহত হন।
একজনের মুখ ক্ষতবিক্ষত, জখম অপরের দুই হাত
বিস্ফোরণের অভিঘাতে এক শ্রমিকের মুখে গুরুতর চোট লাগে। তাঁর মুখ কার্যত ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। অপর শ্রমিকের দুই হাতেও গুরুতর আঘাত লাগে। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী, পৌঁছন বিধায়ক
বিস্ফোরণের খবর পেয়ে চাকদহ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন পুলিশ আধিকারিকরা। ঘটনাস্থলে যান বিধায়ক বঙ্কিম ঘোষও। যদিও এই ঘটনার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পঞ্চায়েত প্রধান অন্নপূর্ণা বিশ্বাসের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ভোটের আগে বোমা মজুতের অভিযোগ
ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, নির্বাচনের আগে হামলার উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় বোমা মজুত করে রাখা হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, অতীতেও এলাকায় একাধিকবার বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
বিধায়ক বঙ্কিম ঘোষও এলাকায় বিপুল পরিমাণ বোমা ও অস্ত্র মজুত থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, ওই বাড়ির তিনতলায় একটি আন্ডারগ্রাউন্ড গোডাউন রয়েছে এবং সেখানে প্রচুর বোমা ও অস্ত্র মজুত থাকার খবর তাঁর কাছে রয়েছে।
তল্লাশির দাবি বিধায়কের
বিধায়কের আশঙ্কা, বিস্ফোরণের পরেও এলাকায় আরও বোমা বা বিস্ফোরক মজুত থাকতে পারে। তাই দ্রুত পুলিশি তল্লাশি চালিয়ে সেগুলি উদ্ধার করার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়ির বাগানে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। স্থানীয়দের দাবি এবং বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর।


