কলকাতা: বারুইপুরে গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের হত্যায় উস্কানির অভিযোগে রবিবার রাতে গ্রেফতার হয়েছেন সিপিআইএম নেতা লাহেক আলি (Lahek Ali)। গ্রেফতারির আশঙ্কায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েও কোনও লাভ হল না। রবিবার রাতে বারুইপুরের খোদারবাজার এলাকা থেকে লাহেককে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোমবার সকালে বারুইপুর আদালতে তোলা হয় তাঁকে। কিন্তু প্রিজন ভ্যান থেকে নামানোর সময় বাম নেতাকে হেলমেট পরিয়ে দেন পুলিশকর্মীরা।
প্রশ্ন উঠছে, ডিম হামলার আশঙ্কাতেই কি লাহেককে (Lahek Ali) হেলমেট পরানো হল? প্রসঙ্গত, রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে ডিম হামলার শিকার হয়েছেন বিরোধী দলের নেতারা। শুধু ‘কালীঘাট তৃণমূল’ নয়, সম্প্রতি কোচবিহারের শীতলকুচিতে বাম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের গাড়িতেও ডিম ছোঁড়া হয়। শাসকদলের তরফে এই ডিম হামলার নিন্দা করা হলেও, হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও বন্ধ হয়নি ডিম থেরাপি।
গ্রেফতারি নিয়ে কি বললেন লাহেক ও সিপিআইএম?
এদিন আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে লাহেক আলি (Lahek Ali) তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “সব মিথ্যে অভিযোগ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চলছে। এভাবে প্রতিবাদের মুখ বন্ধ করা হচ্ছে।” তাঁর দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে, লাহেক আলির গ্রেপ্তারিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই দাবি করেছে সিপিএম। দলের প্রাক্তন বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী বলেন, পুলিশ যে ঘটনার কথা বলছে, সেই সূর্যপুরের গণপিটুনির ঘটনা ঘটার পর লাহেক আলি ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন। তাঁর কথায়, “একটু তদন্ত করলেই, সিসিটিভি ফুটেজ দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। কিন্তু তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই মুখ্যমন্ত্রী বলে দিচ্ছেন, কে নির্দোষ আর কে অভিযুক্ত। বিচারের আগে এভাবে মন্তব্য হলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
আদালতে যাওয়ার পথেও লাহেক আলি (Lahek Ali) একই অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “প্রতিবাদের মুখ বন্ধ করা হচ্ছে। সব মিথ্যে মামলা।” প্রসঙ্গত, রবিবার রাতে লাহেক আলিকে গ্রেফতার করে বারুইপুর পুলিশ। পরে আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি বিবেচনা করে তাঁকে রাতভর নরেন্দ্রপুর থানায় রাখা হয়। সোমবার সকালে তাঁকে বারুইপুর আদালতে আনা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর (Lahek Ali) বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার উসকানিমূলক কার্যকলাপ-সহ একাধিক ধারায় মোট অন্তত ১৫টি মামলা এবং ভারতীয় রেল আইনের দুটি ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
এদিকে, লাহেক আলির নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছে সিপিএমের বিভিন্ন সংগঠন। দলের দাবি, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য সামনে আনা হোক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রবণতা বন্ধ করা হোক। অন্যদিকে, মামলার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


