কলকাতা: মনে আছে ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে হুইলচেয়ার থেকে হাত দিয়ে ফুটবল ছুঁড়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ছাব্বিশের ভোটে ক্ষমতা হারানোর সাথে সাথেই যেন গ্ৰহণ লাগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজ হাতে গড়া তৃণমূলে!
দলে ভাঙন, তহবিল-প্রতীক টানাটানির মধ্যে গত ১৮ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে কার্যত ‘ফ্রিজ’ হয়ে যায় পুরনো পরিচয়। কমিশন জানায়, ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ ও ঘাসফুল প্রতীক আপাতত বহাল থাকছে না। মমতা (Mamata Banerjee) শিবিরের জন্য নতুন নাম ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’, প্রতীক ফুটবলার। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির পায় ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও খাম প্রতীক।
কিন্তু এখানেও দমে যাওয়ার পাত্রী নন মমতা। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে দলের পুরনো নাম ও প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি গ্রহণ করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিব্বল দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়ে বলেন, ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাঝপথে দলের প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়া হয়েছে, যা ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
তাঁর বক্তব্য, দলের পক্ষ থেকে কমিশনের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যাও জমা দেওয়া হয়েছিল, তবুও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সিব্বলের আবেদনের জবাবে জানান, এই সপ্তাহের মধ্যেই শুনানির চেষ্টা করা হবে এবং শুনানির সময় তিনি নিজের বক্তব্য পেশ করতে পারবেন।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই মামলা?
ভারতের নির্বাচনী রাজনীতিতে দলীয় প্রতীক শুধু একটি চিহ্ন নয়! বহু ভোটারের কাছে সেটিই দলের পরিচয়। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকায় প্রতীককে কেন্দ্র করেই ভোটের প্রচার ও পরিচিতি গড়ে ওঠে। তাই ভোট ঘোষণার পর প্রতীক পরিবর্তনের প্রশ্ন রাজনৈতিক ও আইনি দুই দিক থেকেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের আসন্ন শুনানির দিকে। আদালতের সিদ্ধান্তই ঠিক করবে, নির্বাচনের ময়দানে মমতা (Mamata Banerjee) শিবির কি পুরনো ঘাসফুল ফিরে পাবে, নাকি নতুন ‘ফুটবলার’ প্রতীক নিয়েই লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।


