28 C
Kolkata
Tuesday, August 18, 2026
spot_img

পরিবার পরিকল্পনায় বড় বদল? দুইয়ের বেশি সন্তান নেওয়া বন্ধে আইন ভাবছে রাজ্য

Aaj India Desk, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে আরও কড়া পদক্ষেপের কথা ভাবছে রাজ্য সরকার। স্বামী-স্ত্রীর সংসারে সর্বোচ্চ দুই সন্তান রাখার বিষয়ে নতুন আইন আনার সম্ভাবনা নিয়ে স্বাস্থ্য দফতরের অন্দরে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্যভবনে প্রসূতি মৃত্যু নিয়ে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়।

মাতৃমৃত্যুর নেপথ্যে একাধিক কারণ

স্বাস্থ্য দফতরের পর্যালোচনায় প্রসূতি মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে অল্প বয়সে গর্ভধারণ এবং একাধিকবার সন্তান প্রসব। বৈঠকে জানানো হয়েছে, কয়েকটি জেলায় বহুবার সন্তান প্রসব করতে গিয়ে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। কোথাও ১৩ বা ১৪ নম্বর সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এই ধরনের ঘটনায় বিশেষত আর্থিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের মহিলাদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

নাবালিকা গর্ভধারণ নিয়েও উদ্বেগ

অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের গর্ভধারণের প্রবণতা নিয়েও স্বাস্থ্য দফতর উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের সুতি-১, সুতি-২ এবং সামশেরগঞ্জের মতো এলাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের নজর রয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, কম বয়সে গর্ভধারণ মা ও শিশু দু’জনেরই স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি বাড়ায়। তাই বাল্যবিবাহ ও নাবালিকা গর্ভধারণ ঠেকানোর পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা নিয়েও সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

দুই সন্তানের পর পরিবার পরিকল্পনায় জোর

স্বাস্থ্য দফতরের তরফে বার্তা দেওয়া হয়েছে, দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর দম্পতিদের স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী স্থায়ী অথবা সাময়িক গর্ভনিরোধক ব্যবস্থা বিনামূল্যে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত দুই সন্তান নীতি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও আইনি কাঠামো কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

স্বাস্থ্য পরিষেবায় আরও একাধিক উদ্যোগ

রাজ্য সরকারের ১০০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য দফতরের একাধিক পরিকল্পনাও সামনে এসেছে। কলকাতায় নতুন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি অ্যালোপ্যাথি হাসপাতালগুলিতে আয়ুর্বেদিক আউটডোর চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

অন্যদিকে, আর্থিকভাবে দুর্বল রোগীদের চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে নির্দিষ্ট সংখ্যক বেড সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে শয্যা না থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি খরচে রোগীকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও পরখ করা হচ্ছে। সম্প্রতি এসএসকেএম থেকে কেপিসি মেডিক্যাল কলেজে রোগী স্থানান্তরের মাধ্যমে এমনই একটি মকড্রিল করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন