Aaj India Desk, শিলিগুড়ি : পশ্চিমবঙ্গে শুধুমাত্র সরকার বা রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন হয়নি, বদল এসেছে প্রশাসনিক ব্যবস্থাতেও শিলিগুড়ির মঞ্চ থেকে এমনই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে রাজ্যে ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি নিজের সরকারের প্রথম ১০৫ দিনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের খতিয়ানও তুলে ধরেন তিনি।
‘শাসকের আইন’ থেকে ‘আইনের শাসন’
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার সময় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বাংলার পরিস্থিতি নিয়ে ‘শাসকের আইন’-এর যে অভিযোগ তুলেছিল, তার অবসান ঘটেছে। সংবিধান ও আইনের শাসনকে সামনে রেখেই রাজ্য পরিচালনা করা হচ্ছে বলে দাবি তাঁর।
দায়িত্ব নিয়েই তিন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ৯ মে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে রাজ্যপালের কাছে শপথ নেওয়ার পর ১০ মে ছিল রবিবার। পরদিন, ১১ মে সচিবালয়ে গিয়ে তিনি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে সই করেন।
প্রথমত, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত এলাকায় বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় অনুমোদন দেওয়া হয়। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘদিন আটকে থাকা জনগণনা প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার জন্য মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, আগের সরকার রাজনৈতিক কারণে জনগণনা আটকে রেখেছিল এবং ২০২৫ সালের ১৬ মে অমিত শাহ এ নিয়ে চিঠিও দিয়েছিলেন।
তৃতীয়ত, গোটা দেশে কার্যকর হলেও বাংলায় এতদিন চালু না হওয়া ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) রাজ্যে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সরকারের চার মূল নীতি
১০৫ দিনের সরকারের কাজের ভিত্তি হিসেবে চারটি নীতির কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। দেশপ্রেম ও জাতীয় নিরাপত্তায় আপসহীন থাকা, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন, পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ‘একাত্ম মানববোধ’-এর আদর্শে জনকল্যাণ এবং কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বয়ে সুশাসন এই চার স্তম্ভের উপর সরকার এগোচ্ছে বলে জানান তিনি।
দ্রুত বিচারের বার্তা
ভারতীয় ন্যায় সংহিতাকে ‘বিপ্লবী পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পুরনো IPC ও CrPC-এর পরিবর্তে নতুন আইনে প্রযুক্তি, স্বচ্ছতা এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অপরাধের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া আরও দ্রুত হবে এবং অপরাধীরা উপযুক্ত শাস্তি পাবে বলে দাবি তাঁর।
তরুণ প্রজন্মকে নতুন আইন জানার আহ্বান
শিলিগুড়িতে আয়োজিত ‘ন্যায় সংহিতা প্রদর্শনী’র কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সহযোগিতায় আয়োজিত এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে আইন পড়ুয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী এবং তরুণ প্রজন্মকে দেশের নতুন আইনি কাঠামো সম্পর্কে অবহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংবিধানে বাবাসাহেব আম্বেদকর প্রদত্ত অধিকার রক্ষায় তরুণ সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
শেষে পশ্চিমবঙ্গকে ফের ‘ভারত-সেরা’ করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী।


