কলকাতা: বিধানসভায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মেয়ের হত্যার বিচার চেয়েছিলেন তামান্নার (Tamanna Khatun) মা সাবিনা ইয়াসমিন (Sabina Yasmin)। তার কয়েকঘন্টার মধ্যেই গ্রেফতার মামলার আরও দুই অভিযুক্ত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুর্শিদাবাদের একটি এলাকায় অভিযান চালায় কালীগঞ্জ থানার পুলিশ। সেখান থেকেই দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁদের কালীগঞ্জে নিয়ে আসা হয়েছে। বুধবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে অভিযুক্তদের আদালতে তোলা হবে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাঁদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারে বলেও সূত্রের খবর। এই গ্রেফতারির পর তামান্না (Tamanna Khatun) হত্যায় এখনও পর্যন্ত মোট গ্রেফতারির সংখ্যা দাঁড়াল ১৩।
এই গ্রেফতারির পর স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন নিহত তামন্নার (Tamanna Khatun) মা সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দাবি করে আসছিলেন যে অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়নি, বরং তাঁদের আড়াল করে রাখা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, এর পিছনে কিছু প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার মদত ছিল। একইসঙ্গে তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তবে মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে সাক্ষাতের পর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
সাবিনা ইয়াসমিনের (Sabina Yasmin) কথায়, “মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিচার চেয়েছিলাম। আশ্বাস পেয়েছিলাম, কিন্তু এত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে ভাবিনি। এখনও কয়েকজন অভিযুক্ত অধরা। আশা করি, তাঁদেরও দ্রুত গ্রেফতার করা হবে এবং আমার মেয়ের হত্যার বিচার মিলবে।”
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তৃণমূলের বিজয় মিছিল থেকে ছোঁড়া বোমা বিস্ফোরণে মারা যায় খুদে তামান্না খাতুন (Tamanna Khatun)। ঘটনায় তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। সেই উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন আলিফা আহমেদ, যিনি পরবর্তীতে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও জয়লাভ করেন। অন্যদিকে ছাব্বিশের ভোটে সিপিএম প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন। সেইসময় তিনি (Sabina Yasmin) বলেছিলেন, “জানি সিপিএম ক্ষমতায় নেই। তাই হয়তো বিচার পেতে দেরি হবে। কিন্তু আমার মনে হয় এই দল গরিব মানুষের জন্য লড়ে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে খেটে-খাওয়া, অসহায় মানুষের কথা ভাবে। অন্য দল হলে হয়তো বিচারই পেতাম না।”
এরপর রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসেছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার বিধানসভায় তমান্না হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরব হন তিনি। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের সংবেদনশীল ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর। অধিবেশন শেষে সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে বৈঠকও করেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এবং সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান।
বৈঠকের পর সাবিনা ইয়াসমিন জানান, মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে তিনি সুবিচারের আশ্বাস পেয়েছেন। তাঁর কথায়, “অনেকদিন ধরে বিচার চাইছি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পরই তদন্তে গতি এসেছে। আশা করছি বাকি অভিযুক্তদেরও দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।”


