কলকাতা: নদিয়ার কালীগঞ্জের বহুচর্চিত ছোট্ট তামান্না খুনের ঘটনায় (Tamanna Khatun murder case) তদন্তে বড় অগ্রগতি। ২৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কৃষ্ণনগরের মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালতে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দিল কালীগঞ্জ থানার পুলিশ। প্রথম চার্জশিটের তুলনায় এবার অস্ত্র আইনের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কালীগঞ্জ থানার ৫৩৪/২৫ নম্বর মামলায় এর আগে ২৪ জন অভিযুক্তের মধ্যে ১৩ জনের বিরুদ্ধে প্রথম দফায় চার্জশিট পেশ করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে অভিযুক্তদের একজন কলকাতা হাই কোর্ট থেকে জামিন পান। বাকি দু’জন পলাতক থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
এরপর রাজ্যে পালাবদল পর এই মামলার (Tamanna Khatun murder case) তদন্তে নতুন গতি আসে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে তদন্তকারী দল ভিনরাজ্যে অভিযান চালিয়ে একে একে পলাতক অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতেই এবার ২৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধেই সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের দাবি, তদন্ত চলাকালীন নতুন তথ্যপ্রমাণ এবং ফরেনসিক সংক্রান্ত নথি হাতে আসায় চার্জশিটে অস্ত্র আইনের ধারা সংযোজন করা হয়েছে। এর ফলে মামলার আইনি ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে তদন্তকারী মহল। এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে বিচারের অপেক্ষায় থাকা তামান্নার পরিবার পুলিশের এই পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। পরিবারের আশা, দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত হবে (Tamanna Khatun murder case)।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তৃণমূলের বিজয় মিছিল থেকে ছোঁড়া বোমা বিস্ফোরণে মারা যায় খুদে তামান্না খাতুন (Tamanna Khatun murder case)। ঘটনায় তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। সেই উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন আলিফা আহমেদ, যিনি পরবর্তীতে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও জয়লাভ করেন।
অন্যদিকে ছাব্বিশের ভোটে সিপিএম প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন। সেইসময় তিনি (Sabina Yasmin) বলেছিলেন, “জানি সিপিএম ক্ষমতায় নেই। তাই হয়তো বিচার পেতে দেরি হবে। কিন্তু আমার মনে হয় এই দল গরিব মানুষের জন্য লড়ে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে খেটে-খাওয়া, অসহায় মানুষের কথা ভাবে। অন্য দল হলে হয়তো বিচারই পেতাম না।”
এরপর রাজ্যে পালাবদলের পর বিধানসভায় তামান্না হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছিলেন, এ ধরনের সংবেদনশীল ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর। অধিবেশন শেষে সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গেও বৈঠক করে আশ্বাস দিয়েছিলেন শুভেন্দু(Suvendu Adhikari)।


