Aaj India Desk, কলকাতা: নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে (NEET Paper Leak Protest) শুক্রবার কলকাতার ধর্মতলায় বাম ছাত্র সংগঠন ও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ডাকা বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েন একাধিক সাংবাদিকও (Journalist Assaulted)। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ দু’জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার (Arrest) করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম মহম্মদ আফরোজ এবং আরশাদ আলি ওরফে সাজিদ। আফরোজকে অণ্ডাল থেকে এবং সাজিদকে কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট এলাকার বাড়ি থেকে আটক করা হয়। এছাড়াও আরও ৯ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, গ্রেফতার হওয়া কেউই ওই বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারী বা কোনও বাম ছাত্র সংগঠন কিংবা সিজেপির সদস্য নন। তাঁদের বক্তব্য, এরা বাইরে থেকে এসে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছিল। একই অভিযোগ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীও। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবেই কিছু বহিরাগত বিশৃঙ্খলা তৈরির উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে এসেছিল।
শুক্রবারের বিক্ষোভ চলাকালীন পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতো ও বোতল ছোড়ে এবং কয়েকজন পুলিশকর্মীর গায়ে জলও ছিটিয়ে দেওয়া হয়। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায়। সেই সংঘর্ষের মধ্যেই আক্রান্ত হন কয়েকজন সাংবাদিক।
ঘটনার পর আহত সাংবাদিকদের দেখতে এসএসকেএম হাসপাতালে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, যারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার বিধানসভাতেও এই প্রসঙ্গ ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সাংবাদিকদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই ছয়টি মামলা দায়ের হয়েছে। প্রতিটি মামলায় গুন্ডা দমন আইনও যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, আফরোজ, নাহিদ, তনভীর, রাহুল ও জামাল-সহ যাদের নাম উঠে এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাহস না পায়। পুলিশের দাবি, গোটা ঘটনার তদন্ত দ্রুত এগোচ্ছে। হামলায় জড়িত আরও কেউ থাকলে তাদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে এই গ্রেফতারিকে ঘিরে নতুন করে জনমহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সিজেপির আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। সেই প্রেক্ষাপটে অভিযুক্তদের গ্রেফতার হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তাঁদের কি আইনের মুখোমুখি হতে হবে, নাকি আন্দোলনের দাবির ভিত্তিতে কোনও বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে? যদিও এ বিষয়ে এখনও সরকার বা তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে কোনও আলাদা ঘোষণা করা হয়নি। ফলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়াই চলবে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।


