Aaj India Desk,নয়াদিল্লি: বিরোধী রাজনীতির অন্দরে ফের সক্রিয় হচ্ছে ঐক্যের চেষ্টা। দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে আয়োজিত INDIA জোটের বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এবং SIR প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে যৌথ অবস্থানের পাশাপাশি আগামী দিনের বিরোধী কৌশল নিয়েও কথা হয়। আর সেই বৈঠকেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-এর একটি মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা।
বিরোধী পরিসর বাড়ানোর প্রস্তাব
বৈঠকে সিপিআই(এম) নেতা এম এ বেবি (M A Baby) বিজেপি-বিরোধী পরিসর আরও বিস্তৃত করার প্রস্তাব দেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, শুধু INDIA জোটের শরিক দলগুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিজেপি-বিরোধী অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তি, সিভিল সোসাইটি এবং বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদেরও বৃহত্তর আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন।
এই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সূত্রের খবর, তিনি জানান, ইতিমধ্যেই INDIA জোটের বাইরে থাকা বিরোধী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। গত মঙ্গলবার ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক (Naveen Patnaik)-এর সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে বলে বৈঠকে জানান তৃণমূল নেত্রী।
প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে মমতার মন্তব্য
বৈঠকের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলির মধ্যে ছিল বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব। প্রধানমন্ত্রী পদের প্রসঙ্গ উঠলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) জানান, কংগ্রেস সেই পদ পেলে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। এ নিয়ে তাঁর কোনও ‘ইগো’ নেই বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। তবে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত কোনও একক দলের হাতে না রেখে শরিকদের সর্বসম্মত মতের ভিত্তিতে নেওয়া উচিত বলে মত দেন মমতা।
অন্যদিকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে (Mallikarjun Kharge) জানান, কংগ্রেসের লড়াই মূলত ক্ষমতা বা প্রধানমন্ত্রীর পদকে কেন্দ্র করে নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক কাঠামো রক্ষাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
SIR নিয়ে বিরোধীদের সরব অবস্থান
বৈঠকে নির্বাচন কমিশন এবং SIR প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়। নির্বাচন কমিশন অভিযানের বিষয়ে ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা জি দেবরাজন (G Devarajan)-এর প্রস্তাবকে সমর্থন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)।
বাংলার নির্বাচন পরিস্থিতি এবং SIR প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দক্ষিণ কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে EVM পুড়ে যাওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন মমতা। এই পরিস্থিতিতে নিজেকে ‘বিগেস্ট সাফারার’ বা সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী বলে দাবি করেন তিনি। বিহারের বিরোধী নেতা তেজস্বী যাদব (Tejashwi Yadav) মমতার ভোটচুরির অভিযোগকে সমর্থন করেন। যদিও রাহুল গান্ধীর বক্তব্য, শুধু বিরোধী দল নয়, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
তৃণমূল ভাঙন নিয়েও সরব উদ্ধব
বৈঠকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির প্রসঙ্গও ওঠে। শিবসেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী)-র নেতা উদ্ধব ঠাকরে (Uddhav Thackeray) অভিযোগ করেন, তাঁর দলের ক্ষেত্রে যে কৌশলে ভাঙন তৈরি করা হয়েছিল, তৃণমূলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ছক দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে ওমর আবদুল্লা (Omar Abdullah) পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রায় চার মিনিট বক্তব্য রাখেন। সমাজবাদী পার্টির নেতা হরেন্দ্র মালিক (Harendra Malik)-এর বক্তব্য, বিরোধী ঐক্যকে আরও সুসংহত করতে কংগ্রেসকেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে।
সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে মমতার মন্তব্য, SIR ও নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিরোধীদের অবস্থান এবং বৃহত্তর বিজেপি-বিরোধী ঐক্যের পরিকল্পনা INDIA জোটের বৈঠক ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


