Aaj India Desk, কলকাতা: দ্বিতীয় দফার ভোট (Vote)-এর আগে রাজ্যের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল (Hostel) ও ক্যাম্পাস (Campus)-কে ঘিরে কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন (ECI)। বিশেষভাবে নজরে রাখা হচ্ছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসগুলি। পাশাপাশি আরও বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হস্টেলেও তল্লাশি ও নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে। কমিশনের কাছে খবর এসেছে, কয়েকটি হস্টেলে বহিরাগতদের উপস্থিতি বেড়েছে। সেই তথ্য সামনে আসার পরই শুরু হচ্ছে বিশেষ অভিযান ও কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া।
আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ হবে। ওইদিন সাতটি জেলার মোট ১৪২টি কেন্দ্রে ভোট নেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও নদিয়া। ভোটের আগে এই জেলাগুলির বিভিন্ন ছাত্রাবাসে বাইরের লোকজনের যাতায়াত বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
যে সব প্রতিষ্ঠানে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়, বেলগাছিয়ার পশুচিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় এবং কল্যাণীর বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া তেঘরিয়ার হজ টাওয়ার, নিউটাউনের হজ হাউস, পার্ক সার্কাসের হজ হাউস, রাজারহাট নিউটাউনের আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পার্ক সার্কাসের আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এবং তালতলার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের যুব আবাসও কমিশনের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৫৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এলাকায় কড়া নজর থাকবে বলে জানা গিয়েছে।
বাংলায় ভোটের তারিখ ঘোষণার সময়ই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছিলেন, শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। কমিশনের দাবি, কিছু ছোটখাটো ঘটনা ছাড়া নির্বাচন মোটের উপর শান্ত ছিল। কোনও কেন্দ্রেই ফের ভোটের প্রয়োজন পড়েনি।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, প্রথম দফার তুলনায় দ্বিতীয় দফায় নিরাপত্তা আরও শক্ত করা হবে। তাঁর বক্তব্য, আগামী পর্যায়ের ভোটও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবেই সম্পন্ন হবে। এই পরিস্থিতিতে ছাত্রাবাসে বহিরাগতদের আনাগোনার খবর সামনে আসতেই কঠোর পদক্ষেপে নামল নির্বাচন কমিশন।


