Aaj lndia Desk,কলকাতা: পালাবদলের পর কলকাতা পুরসভায় (Kolkata Municipal Corporation) শুরুটাই যেন বড়সড় ধাক্কার মুখে পড়লো। আচমকাই এক বিজ্ঞপ্তি বাতিল প্রথম মাসিক অধিবেশন। আর এই বিজ্ঞপ্তি কে ঘিরেই এখন রাজনৈতিক মহলে চলছে জল্পনা। নেপথ্যে কি তবে রাজ্য-পুরসভার ঠান্ডা লড়াই?এই প্রশ্নই উঠছে।
কলকাতা পুরসভায় এমন ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না। তাই এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বাড়ছে জল্পনা, ক্ষমতার সমীকরণ বদলের পর পুরভবনের অন্দরেই কি তৈরি হয়েছে নতুন টানাপোড়েন? নাকি এর পিছনে রয়েছে সম্পূর্ণ অন্য কোনও কারণ? আপাতত রহস্য- এর মধ্যেই থাকছে পুরো সমস্যাটা।
শুক্রবার, ২২ মে কলকাতা পৌরসভার মাসিক অধিবেশন হওয়ার কথা ছিল। সেইমতো আগেই জারি হয়েছিল বিজ্ঞপ্তিও। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুরে আচমকাই ছবিটা বদলে যায়। পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডের নির্দেশে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়ে দেওয়া হয় আপাতত হচ্ছে না মাসিক অধিবেশন।
কলকাতা পুরসভার আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত মাসিক অধিবেশন না হলে তৈরি হতে পারে সাংবিধানিক জটিলতা। এমনকি চরম পরিস্থিতিতে পুরবোর্ডের অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে বলেই মত অনেকের। ফলে আচমকা এই সিদ্ধান্ত ঘিরে জল্পনা আরও বেড়েছে।কেন অধিবেশন বাতিল করা হলো সেই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পুর কমিশনারের দফতরের তরফে স্পষ্ট কোনও কারণ জানা যায়নি।
এদিকে রাজ্যে পালাবদলের পর এখন প্রশাসনের দায়িত্ব বিজেপির হাতে, আর কলকাতা পুরসভায় এখনও ক্ষমতায় তৃণমূল। এই দ্বৈরথই ধীরে ধীরে পুরসভার অন্দরে অচলাবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিস্থিতি সামাল দিতে কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পান্ডেকে ডেকে পাঠান মেয়র ফিরহাদ হাকিম। মাসিক অধিবেশন যেন এভাবে বাতিল না হয়, সেই বিষয়েই কমিশনারকে অনুরোধ করেন তিনি।
তবে মাসিক অধিবেশন বাতিলের ঘোষণার আগেই কলকাতা পুরসভায় পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। আচমকাই বদলি করা হয় পুরসভার সচিব স্বপন কুন্ডুকে। সূত্রের দাবি, মাসিক অধিবেশন বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন পুর কমিশনার। কিন্তু সচিব সেই নির্দেশ মানতে রাজি হননি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জরুরি পরিস্থিতি না থাকলে মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে এভাবে অধিবেশন বাতিল করা আইনসম্মত নয়।আর এই ঘটনাতেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে কলকাতা পুরসভায়। পুরসভা সূত্রের খবর, রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে এভাবে মাসিক অধিবেশন বাতিল হওয়ার ঘটনা আগে প্রায় দেখা যায়নি।


